মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে এনা পরিবহনের বাস একটি মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দিলে আটজন মারা যান।এ ঘটনায় চারটি পরিবার তাঁদের উপার্জনক্ষম সদস্যদের হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতির কারণে এনা পরিবহনের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন তারা।
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বর সুফিয়ান ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও প্রযুক্তি-বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তিনি মাওলানা ছিলেন। আর তাঁর বাবা কৃষিকাজ করতেন। সুফিয়ানের ভাই কামরান আহত অবস্থায় এখন ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নবম শ্রেণিপড়ুয়া ছোট ভাই শাহনুর আহমদ মা সুনারা বেগমের সঙ্গে আছে। তাঁরা দোষীদের শাস্তি এবং এনা পরিবহনের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন।
জমিয়তে উলামা বাংলাদেশ ও মাদানী কাফেলা বাংলাদেশ আহত কামরানের চিকিৎসার খরচ দিচ্ছে। তারা গ্রামে নিহত ৮ জনের পরিবারকেও আর্থিক সহায়তা করেছে।
নিহত মতিউর গ্রামে চায়ের দোকান দিয়ে কোনো রকমে সংসার চালাতেন। তাঁর ছোট ছেলে আলী হোসেনও এ দুর্ঘটনায় মারা গেছে। স্বামী ও ছোট ছেলে হারিয়ে মতিউরের স্ত্রী মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন। মতিউরের মেয়ে রুবিনা বলেন, সংসার কীভাবে চালাবেন এ চিন্তা তাঁদের পিছু ছাড়ছে না।
চার মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে বরের মামা রাজমিস্ত্রি দুরুদ মিয়ার সংসার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুত দুরুদ মিয়ার স্ত্রী নিলুফা বেগম এখন সন্তানদের নিয়ে অসহায়। মেয়ে আলপনা বলেন, এখন কীভাবে সংসার চালাবে, কীভাবে তাঁদের পড়াশোনা চলবে, তা তাঁরা জানেন না। নিহত সাইদুর রহমানের দুই ছেলেমেয়ে। তাঁদের পরিবারেও এখন উপার্জন করার মতো কেউ নেই। ঘটনার পরদিন (মৌলভীবাজার-৪) আসনের এমপি আব্দুস শহীদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হক গ্রামে আসেন। এ সময় তাঁরা ৮টি পরিবারকে এক লাখ টাকা ভাগ করে দেন।
উল্লেখ্য, ১৬ সেপ্টেম্বর কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের রুপশপুর গ্রামের আবু সুফিয়ানের বিয়ে (২৬) উপলক্ষে বরযাত্রীবাহী ঢাকাগামী একটি মাইক্রোবাস ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার শশই এলাকায় পৌঁছলে বরবাহী মাইক্রোবাসটিকে এনা পরিবহনের একটি বাস ধাক্কা দেয়। এদুর্ঘটনায় বর সুফিয়ান, তাঁর বাবা হাদিউর রহমান (৬০), বরের চাচা মতিউর রহমান (৪২), মতিউরের ছেলে আলী হোসেন (১২), আত্মীয় আবদুল হান্নান (৫৮), মামা দুরুদ মিয়া (৫৫), প্রতিবেশী মোক্তাদির (৬৫) ও সাইদুর রহমান (৪৫) মারা যান।
৮ জনকেই দক্ষিণ রুপশপুর গ্রামের কবরস্থানে পাশাপাশি কবর দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে আবদুল হান্নান ও মুক্তাদিরের পরিবার সচ্ছল। বাকিদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়।
/এইচকে/আপ-এসএনএইচ/








