সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সরকারি দলের অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্ব ও কোন্দলের জের ধরে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল হক আহত হওয়ার ঘটনায় অবশেষে মামলা নিয়েছে পুলিশ। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশের পর মঙ্গলবার মামলাটি রজু করা হয়। মামলায় সিরাজগঞ্জ-৩ (তাড়াশ-রায়গঞ্জ) আসনের সরকারি দলের সাংসদ গাজী ম ম আমজাদ মিলন, তার দুই ছেলে ও স্বজনসহ ১৪ জন জ্ঞাত ও আরও ১০/১২ জন অজ্ঞাতকে আসামি করা হয়েছে।
তাড়াশ থানার ওসি এ টি এম আমিনুল ইসলাম মামলার বিষয় স্বীকার করেছেন। এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে মামলা রজুর পর তাড়াশ বাজার এলাকায় এমপি মিলন ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হকের সমর্থকদের মধ্যে পাল্টপাল্টি বিক্ষোভ, প্রতিবাদ-সমাবেশ ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে র্যাব ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। উপজেলা সদরের বাজার ও মহিষলুটি এলাকায় উভয় পক্ষের সমর্থকদের সভা-সমাবেশ ঠেকাতে দুপুর ২টা থেকে সন্ধা ৭টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিল্লুর রহমান খান ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ ইরতিজা আহসান ১৪৪ ধারা জারির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘দুপুরের পর থেকে ওইসব এলাকায় মাইকে বিষয়টি প্রচারের জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে মামলা রুজু হওয়ার পর র্যাব, পুলিশ ও ডিবির বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহিনুর আলম খান তাড়াশ থানায় অবস্থান করলেও রায়গঞ্জ সার্কেল এএসপি মোতাহার হোসেন অভিযানের নেতৃত্ব দেন। অভিযানে সাংসদ মিলনের ভাগ্নে এজাহারভুক্ত আসামি তাড়াশ উপজেলা স্চ্ছো-সেবকলীগের সভাপতি আব্দুল খালেক পিয়াসকে গ্রেফতার করা হয়। মামলা রুজু ও অভিযানের খবর পেয়ে তাড়াশে অবস্থানরত এমপি মিলন ও তার স্বজনরা যারা মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন তারা দুপুর পর উপজেলা ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যান।
স্থানীয় বাসিন্দা ও মামলার সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে আইন-শৃঙ্খলা সভায় দুই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জিডি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পারিক উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এরই এক পর্যায়ে সভায় উপস্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হকের সঙ্গে এমপি মিলনেরও কথাকাটাকাটি হয়। এ ঘটনার জের ধরে পরে চেয়ারম্যান আব্দুল হককে নিজ অফিস কক্ষে কোপানো হয়। এছাড়া তার অফিস ভাঙচুরসহ বেশ কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যানকে লাঞ্ছিত করা হয়। এ ঘটনায় সাংসদ গাজী ম ম আমজাদ মিলনকে ইন্ধনদাতা ও হুকুমদাতা, তার দু’ছেলে জর্জিয়াস মিলন রুবেল ও জাকির হোসেন জুয়েল, জামাতা গোলাম রব্বানী, ভাগ্নে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি আব্দুল খালেক, ব্যক্তিগত সহকারী আরিফুল ইসলাম, স্বজন শাহিনুর ইসলাম লাবু, লেবু খাঁ, রাজিব খাঁ, আরিফুল ইসলাম, সমর্থক শহিদ, আব্দুল হালিম এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক রজত ঘোষ ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন বিদ্যুতসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জনকে মারপিট ও ভাঙচুরের ঘটনায় আসামি করা হয়েছে।
এর আগে এমপি মিলনকে ইন্ধন ও হুকুমদাতা এবং তার দুই ছেলেসহ অন্যান্যদের হামলাকারী হিসেবে উল্লেখ করে সোমবার বিকালে তাড়াশ থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেন তাড়াশ সদরের ইউপি চেয়ারম্যান বাবলু শেখ। কিন্তু গভীর রাত পর্যন্ত তাকে থানায় বসিয়ে রাখা হলেও অভিযোগটি শেষ পর্যন্ত আমলে নেওয়া হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশের অপেক্ষায় ছিল পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহিনুর আলম খান ও রায়গঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মোতাহার হোসেন এবং ওসি এটিএম আমিনুল ইসলাম রাতে থানায় উপস্থিত থাকলেও এমপি মিলন জড়িয়ে যাওয়ায় গভীর রাত পর্যন্ত তারা কোনও সিদ্ধান্ত দিতে পারেননি।
মামলা না নেওয়ার বিষয়টি উপজেলা ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা কেন্দ্রে জানালে সেখান থেকে বিশেষ নির্দেশনা আসায় পুলিশ অবশেষে মামলা রুজু করতে বাধ্য হন বলে জানান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস।
তবে গ্রেফতার অভিযানে নেতৃত্বদানকারী রায়গঞ্জ সার্কেল এএসপি মোতাহার হোসেন বলেন, ‘উভয়পক্ষ সরকারি দলের হলেও মামলা রুজু হওয়ার পর আসামি ধরার বিষয়ে পুলিশ বেশ তৎপর রয়েছে।’
আরও পড়ুন-
আহলে সুন্নাতকে প্রতিবাদ সভার অনুমতি দিয়ে মাঠে ছিল না প্রশাসন!
/এফএস/







