বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কাফুরা পূর্বপাড়া গ্রামে মুরগি ব্যবসায়ী আল-মাসুদ (১৬) নামের এক কিশোরকে হত্যার পর লাশ গুম করার মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাদের গলায় রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আ ম মো: সাঈদ জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন শেরপুরের কাফুরা পূর্বপাড়ার আরকান আলী জায়দারের ছেলে নুরুল ইসলাম জায়দার ও একই গ্রামের আবদুর রশিদের ছেলে মোস্তফা কামাল।
এজাহার সূত্র জানায়, বগুড়ার শেরপুরের কাফুরা পূর্বপাড়া গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে আল-মাসুদ মুরগি ব্যবসা করতো। গত ২০১৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হবার পর সে নিখোঁজ হয়। ৩দিন পর ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে প্রতিবেশী জিয়াউর রহমানের বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকে মাসুদের পচন ধরা লাশ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে তার মা মালেঞ্চা বেগম শেরপুর থানায় প্রতিবেশী জিয়াউর রহমান, মঞ্জুর রহমান, নজরুল ইসলাম, মো. মঞ্জু, রুহুল আমিন ও তার স্ত্রী বিপাশার বিরুদ্ধে মামলা করেন। তিনি এজাহারে উল্লেখ করেন, দুই শতক জমির মালিকানা নিয়ে আসামিদের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে বাদী ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এরপর তারা তার ছেলেকে ডেকে নিয়ে হত্যার পর পায়খানার সেপটিক ট্যাংকে লাশটি গুম করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা শেরপুর থানার এসআই আবু জাররা তদন্ত করে নিশ্চিত হন যে, এ হত্যার সঙ্গে উল্লিখিত ৬ আসামির সম্পৃক্ততা নেই। তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে একই গ্রামের নুরুল ইসলাম জায়দার ও মোস্তফা কামালকে গ্রেফতার করেন। রিমান্ড শেষে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা গত ২০১৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর এজাহারভুক্ত ৬ জনকে বাদ দিয়ে নুরুল ইসলাম জায়দার ও মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। শুনানি ও সাক্ষীগ্রহণ শেষে আদালত বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের ফাঁসি ও ৫ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষে পিপি আবদুল মতিন মামলা পরিচালনা করেন।
/টিএন/








