বগুড়ার শেরপুরে দুইটি ট্রাকের মুখোমখি সংঘর্ষে নিহত পুলিশ কন্সটেবল শাহজাহান কবিরের (২৮) বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিকনমাটি ধনীপাড়া গ্রামে। তার মৃত্যুতে বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
রবিবার দুপুরে তার বাড়িতে ঢুকতেই দেখা গেল উঠানে মা সহিদা বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলছেন, ‘আমার ছেলের পরিবর্তে কেন আমার মৃত্যু হলো না।’
এ সময় তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কোনও কথা বলতে পারছিলেন না। তার কান্নায় বোঝা যাচ্ছিল ছেলে মৃত্যুর খবর মায়ের কাছে কতটা বেদনাদায়ক।
শাহজাহানের ঘরে এলাকার নারীদের সঙ্গে শোকে পাথর হয়ে বসে আছেন স্ত্রী আইরিন আক্তার। এ সময় তার কালে ১১ মাস বয়সী ছেলে আব্দুল্লাহ আল মিল্লাতকে দেখা গেল। মাঝে মাঝে চিৎকার দিয়ে বলছেন, ‘আমি এখন কিভাবে থাকবো? আমার ছেলেটি এতিম হয়ে গেলো। তাকে কিভাবে মানুষ করবো? সব শিশুরাই তাদের বাবার ভালোবাসা পাবে। কিন্তু আমার ছেলে তো আর তার বাবার ভালোবাসা পাবে না!’
এসময় আধো আধো কথা বলা অবুঝ শিশু মিল্লাত চারিদিকে সবার কান্না দেখে সেও কান্না করছিলো। কিন্তু সে বুঝতেই পারছে না তার বাবার সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।
নিহতের বাবা লতিফুর রহমান জানান, ‘শাহজাহান কবির সাড়ে পাঁচ বছর আগে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। তিনি কুড়িগ্রাম পুলিশ লাইনে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আইরিন আক্তারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের ১১ মাস বয়সী মিল্লাত নামের একটি ছেলে রয়েছে। বাবা বীরমুক্তিযোদ্ধা মৃত লতিফুর রহমান। তিনি ছয় নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়।
গত শনিবার রাত এক টার দিকে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের মহিপুর বাজার এলাকায় দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন পাঁচ পুলিশ সদস্য। যাদের মধ্যে একজন শাহজাহান কবির।
বগুড়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, ‘নিহত পাঁচ পুলিশ সদস্য কুড়িগ্রাম জেলার পুলিশ লাইনে কর্মরত ছিলেন। তারা কিছু যন্ত্রপাতি আনতে একটি ট্রাকে করে ঢাকা যাচ্ছিলেন। এ সময় বগুড়ার মহিপুর এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সার বোঝাই ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। তাতে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। আহত তিন জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বাকি দুজনের মধ্যে একজন পুলিশের পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও অন্যজন ওই ট্রাকের চালক।’
/এসএনএইচ/








