জালিয়াতি করে পিইসি পরীক্ষার খাতায় নম্বর বেশি!

কুমিল্লা প্রতিনিধি
১৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩:২৭আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩:৩১

কুমিল্লা
কুমিল্লার তিতাসে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার (পিইসি) গোপনীয় কোড নম্বর জালিয়াতি করে দু’টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার খাতায় নম্বর বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭৩ জন প্রধান ও সহকারী শিক্ষক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে এ অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি স্বীকার করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা।
স্থানীয় শিক্ষা অফিসে দায়ের করা অভিযোগ সূ্ত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার তিতাস উপজেলার গাজীপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাহবুবুল হক সরকার ও বাতাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আক্তার হোসেন পিইসি পরীক্ষার জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দেওয়া গোপনীয় কোড নম্বর হাতিয়ে নেন। ওই কোড ব্যবহার করে পিইসি পরীক্ষার খাতায় নম্বর বাড়ানোর জন্য তারা বুড়িচং মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও গণিত বিষয়ের প্রধান পরীক্ষক কামরুল হাসানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করেন। ওই কোড নম্বর দিয়ে ওই দুই শিক্ষকের মাধ্যমে অন্যান্য পরীক্ষককে দিয়ে ৬টি বিষয়ের কিছু উত্তরপত্রে নম্বর ৬৫ থাকলেও কভার পৃষ্ঠায় ৮০ এবং নম্বরপত্রে ৭০ থাকলেও তাকে ৮০ বানানো হয়েছে।
উপজেলার গাজীপুর মডেল ও বাতাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তরপত্রগুলোর ভেতরের নম্বর, কভার পৃষ্ঠার নম্বর ও নম্বরপত্রের নম্বর মিলালে এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাংলা ট্রিবিউন বলেন, ‘পিইসি খাতার গোপন কোড নম্বর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কারও জানার কথা নয়। শিক্ষা অফিসের অসাধু চক্রের সঙ্গে জড়িত না থাকলে তিতাসের খাতা বুড়িচং উপজেলায় গেছে তা শিক্ষকরা কিভাবে জানতে পারলেন? আমাদের কাছে জালিয়াতির প্রমাণ আছে।’

গাজীপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাহবুবুল হক সরকার বলেন, ‘গোপন কোড নম্বর হাতিয়ে নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এটা অফিসের বিষয়। আর ওই দিন বুড়িচং শিক্ষক সমিতির লোকজন আমাদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে এসেছিলেন। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।’
বুড়িচং মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল হাসান বলেন, ‘এসব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমরা নম্বর পালটে দিলে ভিতরে ও বাইরে এক করে দিতাম। শিক্ষক সমিতির দুইটি গ্রুপের মধ্যে বিবাদের কারণে এসব অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে।’
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল আউয়াল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘উপজেলার প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের একটি অভিযোগ পেয়েছি। তবে আমার জানা মতে পিইসি পরীক্ষার খাতার গোপন কোড নম্বর কারও জানার কথা নয়। যেহেতু অভিযোগ উঠেছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিতাস উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মকিমা বেগম বলেন, ‘পিইসি পরীক্ষার খাতার গোপন কোড নম্বর হ্যাক করে কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনিয়ম করেছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে অবগত করা হয়েছে।’

 

/টিআর/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিশ্বকাপের আগে খেলোয়াড়দের নিয়ে সতর্ক ফ্রান্স কোচ
বিশ্বকাপের আগে খেলোয়াড়দের নিয়ে সতর্ক ফ্রান্স কোচ
এক দিনেই ৭০০ তিমি ও ডলফিন হত্যা
এক দিনেই ৭০০ তিমি ও ডলফিন হত্যা
দিল্লিতে আগুনে ৮ বাংলাদেশি আহত, গুরুতর অবস্থা তিন জনের
দিল্লিতে আগুনে ৮ বাংলাদেশি আহত, গুরুতর অবস্থা তিন জনের
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান