‘প্রক্সি’ সহায়তা নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার মেধা তালিকায় স্থান হয়েছিল তিন পরীক্ষার্থীর। সাক্ষাৎকার পরীক্ষা উৎরে ভর্তির যোগ্য হিসেবে বিবেচিতও হয়েছিল তারা। কিন্তু বিধিবাম! রবিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিভাগে ভর্তি হতে গিয়ে শিক্ষকদের হাতে ধরা পড়েছে তারা।
আটক তিন পরীক্ষার্থী হলো- নাটোর সদরের মো. আলামিন, দিনাজপুরের বীরগঞ্জের মো. শাহরিয়ার কবির ও সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার হাসিন ওয়াহিদুল তুষার। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই জন শিক্ষক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা এই তিন পরীক্ষার্থীর আটকের খবর নিশ্চিত করেছেন।
এ নিয়ে প্রক্সি সহায়তা নেওয়ার অভিযোগে আটক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাত জনে। এছাড়া একজন কৌশলে পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ আছে।
কলা ও মানবিকী অনুষদ সূত্রে জানা গেছে, কলা ও মানবিকী অনুষদের (সি ইউনিট) ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকাতে মো. আলামিন পঞ্চম (রোল: ৩৪১০৪৫), মো. শাহরিয়ার কবির ১৪তম (রোল: ৩১৪৩৪৭) ও হাসিন ওয়াহিদুল তুষার ৪৩ তম (রোল: ৩৩০৯০৩) স্থান পায়। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষাতে তারা নিজেরা অংশ নেয়নি। তাদের বদলে পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয় অন্য কেউ, অর্থাৎ ‘প্রক্সি’ পরীক্ষার্থী।
প্রক্সি পরীক্ষার্থীর সহায়তা ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তারা তিন জনই কৌশলে সাক্ষাৎকার পরীক্ষাতেও উৎরে যায়। তিন পরীক্ষার্থী রবিবার ভর্তি হওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়। এর মধ্যে শাহরিয়ার কবির ও হাসিন ওয়াহিদুল তুষার জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ এবং আলামিন দর্শন বিভাগে ভর্তি হতে যায়।
বিভাগে ভর্তির সময় সময় বাড়তি সতর্কতার জন্য তাদের হাতের লেখা যাচাই-বাছাই করেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকরা। কিন্তু তিন পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তরপত্রের হাতের লেখার সঙ্গে নিজেদের হাতের লেখা মেলাতে পারেনি। এর মধ্যে হাসিন ওয়াহিদুল তুষারের উত্তরপত্রে দেওয়া ফোন নম্বরটিও ছিল আরেকজনের।
পরে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদের পর তারা তিন জনই প্রক্সি সহায়তা নিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার কথা স্বীকার করে। এ সংক্রান্ত লিখিত অঙ্গীকারনামাও দিয়েছে ওই তিনজন।
বিষয়টি নিয়ে জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি উজ্জ্বল কুমার মণ্ডল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা ভর্তির ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতার জন্য ভর্তিচ্ছুদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে থাকি। ভর্তি ফরমে স্বাক্ষর করার আগে ওএমআর শিটের হাতের লেখার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার জন্য তাদের সাদা কাগজে লিখতে দেওয়া হয়। ওএমআর শিটের সঙ্গে তাদের কারও হাতের লেখা মেলেনি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয় অনুযায়ী, ভর্তি পরীক্ষায় উত্তরপত্রে বাংলা ও ইংরেজিতে দুটি পৃথক বাক্য লিখতে হয় পরীক্ষার্থীকে। কোনও পরীক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিন অফিসে সাক্ষাৎকারের সময় উত্তরপত্রের হাতের লেখা, স্বাক্ষর, ছবি ও মোবাইল নম্বর যাচাই করেন শিক্ষকরা।
এই তিন শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি সহায়তা নিয়ে মেধা তালিকায় স্থান পাওয়ার পর সাক্ষাৎকারেও উত্তীর্ণ হয়। কিন্তু হাতের লেখা না মেলা সত্ত্বেও কীভাবে তারা সাক্ষাৎকারে উত্তীর্ণ হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিষয়ে কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন মোজাম্মেল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কেউ অসুদপায় অবলম্বন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হোক তা আমরা চাই না। ডিন অফিসে অল্প সময়ে অনেক ভর্তিচ্ছুর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করতে হয়। তাই সবার সব কাগজপত্র অনেক সময় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা সম্ভব হয় না। তাই আরও নিখুঁতভাবে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিভাগগুলোকে যাবতীয় কাগজপত্র সরবরাহ করা হয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত সাহা তিন পরীক্ষার্থীর আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আটক তিন জনকে নিরাপত্তা শাখার হেফাজতে রাখা হয়েছে। প্রক্টর অফিসে আরও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করা হবে।’
/টিআর/







