মানবাধিকার সংগঠন রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক ও যশোর প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি বিনয় কৃষ্ণ মল্লিকসহ চার জনের বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা করা হয়েছে সুনামগঞ্জে। সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের বেরীগাঁও গ্রামের আবু মিয়া বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় মামলাটি করেন।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি ৪২০/৪০৮/১০৯/ ৫০৬ ধারায় বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক, এবি সিদ্দিক (৩৫), জাবেদ আহমদ (৩০ ) ও দুলাল প্রধানের (৫২) বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলাটি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে— আবু মিয়ার ছিলে হাছান আলী (২৪) (পাসপোর্ট নং এডি-৩৩৩৮৯২১) ও একই গ্রামের বাক্কী মিয়ার ছেলে মোহন মিয়া (২৫) (পাসপোর্ট নং এডি- ৮৯৯৭৬৭৭) ২০১৪ সালের জুনে ক্যারিয়ার ওভারসিজ কনসালটেন্ট লিমিটেডের মাধ্যমে ইরাকে যায়। তারা ইরাকের নাজ্জাফ শহরের আবু তোরাব হাউজিং কোম্পানিতে কাজ করার সুযোগ পেলেও সেখানে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হওয়ায় তা যথাসময়ে শুরু হয়নি।
এরপর ইরাকে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও ক্যারিয়ার ওভারসিজ কনসালটেন্ট লিমিটেডের সহযোগিতায় হাছান আলী ও মোহন মিয়াসহ অন্যান্য কর্মীরা বাগদাদের একটি কোম্পানিতে কাজের সুযোগ পায়। সেখানে ভালোই ছিল তারা।
সেই সময় রাইটস যশোরে নির্বাহী পরিচালক বিনয় মল্লিক ইরাকে কর্মরত সিদ্দিক ওরফে এবি সিদ্দিকসহ কয়েকজনকে নিয়ে হাছান ও মোহনের কর্মস্থলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি চক্র তৈরি করেন। বাংলাদেশ ক্যারিয়ার ওভারসিজ কনসালটেন্ট লিমিটেডের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য হাছান ও মোহনকে চাপ দেয় তারা। একপর্যায়ে রাইটস-এর পাঠানো এজাহার অনুযায়ী হাছানের বাবা আবু মিয়া ও মোহনের বাবা বাক্কী মিয়া ক্যারিয়ার ওভারসিজ কনসালটেন্ট লিমিটেডের বিরুদ্ধে মামলা করতে বাধ্য হন।
এ অবস্থায় ইরাকে কর্মরত বিনয় মল্লিকের লোকজন সিদ্দিক ও তার ভাই মো. জাবেদ আহমদসহ অন্যান্যরা ভিওআইপির মাধ্যমে হাছান ও মোহনের পরিবারকে জেলে পাঠানোর হুমকি দেয়। আবু মিয়া ও বাক্কী মিয়াকে বিনয় মল্লিক ভয় দেখায়, তাদের ছেলে দেশে ফিরে না এলে ইরাকে তাদের কারাভোগ করতে হবে। কারাগারে যাওয়ার ভয়ে হাছান ও মোহন বাংলাদেশে চলে আসে।
বাদী অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন কৌশলে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার ছেলে হাছান ও বাক্কী মিয়ার ছেলে মোহনকে বিদেশ থেকে ফেরত এনে ট্রাভেলস কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করে নিজের স্বার্থ হাসিলের মাধ্যমে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন বিনয়। এতে বাদী ও বাক্কী মিয়ার পরিবারের অপূরণীয় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
মামলার সাক্ষী বাক্কী মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, হাছান ও মোহন এখন বাহরাইনে আছেন। তবে বাদী আবু মিয়ার দাবি, তারা জাপানে আছেন। তারা সেখানে কাজ পেয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘হাছান ইরাকে থাকার সময় যখন তার কোনও খোঁজ পাচ্ছিলাম না তখন ঢাকায় বিনয় মল্লিকের অফিসে গিয়েছিলাম। সেখানে জাবেদও ছিল। কিন্তু আসামি সিদ্দিক ও দুলালকে কখনও দেখিনি।’
মামলার সাক্ষী ও আবু মিয়ার প্রতিবেশী মোহন মিয়ার বাবা বাক্কি মিয়া বলেন, ‘আমি আসামিদের কাউকে চিনি না। হাছান ও মোহন মামলা করার জন্য ঢাকা থেকে কাগজ পাঠিয়েছে, আমরা তাতে স্বাক্ষর করে থানায় জমা দিয়েছি।’
আবু মিয়ার স্ত্রী সখিনা বলেন, ‘মামলার জন্য কোর্টে কোনও উকিল ধরা হয়েছে কিনা জানি না। মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাদের বাড়িতে এসে তথ্য সংগ্রহ করেছেন।’
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই রিপন চন্দ্র গোপ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এজাহার অনুযায়ী মামলার তদন্ত কাজ চলছে।
এর আগে বিনয় মল্লিকের বিরুদ্ধে নরসিংদীতেও একটি প্রতারণার মামলা রয়েছে। এ কারণে যশোরে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) নরসিংদী আদালতে তোলা হলে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
/এআর/জেএইচ/








