বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী হত্যাচেষ্টা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মুফতি হান্নানের নামে সিলেটে আরও পাঁচটি মামলা রয়েছে। সিলেটের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলার ঘটনায় মুফতি হান্নানের নামে বিস্ফোরক মামলার বিচার এখনও চলমান রয়েছে। হত্যা মামলায় দণ্ডাদেশ পাওয়া চারজনও এ মামলায় অভিযুক্ত। এ ছাড়াও মুফতি হান্নানের বিরুদ্ধে সিলেটে আরও চারটি মামলা রয়েছে। এ চারটি মামলা হলো, ২০০৫ সালে হবিগঞ্জে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যার ঘটনায় দুটি মামলা, ২০০১ সালে সিলেটে নির্বাচন জনসভায় শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলা এবং একই বছর সিলেটের তৎকালীন মেয়র বদরউদ্দিন কামরানকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলার মামলা।
জানা যায়, আনোয়ার চৌধুরী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পাটলি ইউনিয়নের প্রভাকরপুর গ্রামে তার পৈতৃক বাড়ি।২০০৪ সালের ১৫ মে বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হলে তিনি দৃষ্টি কাড়েন সাধারণ মানুষের। ২১ মে তিনি সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারতে আসছেন শুনে দরগাহ জামে মসজিদে সেদিন মুসল্লি ছিলেন বেশি। আনোয়ার চৌধুরীকে কাছ থেকে দেখার আগ্রহ ছিল অনেকের। জুমার নামাজ শেষে মাজার জিয়ারত করে বের হওয়ার সময় দরগাহের প্রধান ফটকের কাছে পৌঁছালে তাকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছোড়া হয়। হামলায় এক পুলিশ সদস্যসহ ঘটনাস্থলে তিনজন নিহত হন। আনোয়ার চৌধুরী, সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক আবুল হোসেন, জেলা আইনজীবী সমিতির তৎকালীন সভাপতি প্রয়াত আবদুল হাই খান, স্থানীয় সাংবাদিক মুহিবুর রহমানসহ ৭০ জন আহত হন। ওই দিন দরগাহ জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিদের সঙ্গে ছিলেন দরগাহের অন্যতম খাদেম মুজাহিদ হোসেন। মুজাহিদ হোসেনের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে দরাগাহের মূল ফটকের পাশে। ফটকের কাছেই গ্রেনেড বিস্ফোরণ হয়। পরদিন সন্ধ্যাবেলা মুজাহিদকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। একদিন পর আবার ছেড়ে দেওয়া হয়।
আলোচিত এ ঘটনার রায় সর্বোচ্চ আদালতে বহাল থাকার প্রতিক্রিয়ায় মুজাহিদ হোসেন বলেন, ‘এত দিন হয়ে গেছে, কিন্তু মনে হয় সেদিনের ঘটনা। এখনও চোখে ভাসে ভয়াবহতা। ঘটনাটি নিয়ে জল ঘোলা করার অনেক চেষ্টাও হয়েছে। দেরিতে হলেও প্রকৃত অপরাধী বের করে বিচারের মুখোমুখি করা এবং সর্বোচ্চ আদালতেও দণ্ড বহাল থাকায় স্বস্তি পাচ্ছি। এ স্বস্তি পূর্ণতা পাবে রায় কার্যকরে।’
ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে আহত হয়েছিলেন সিলেটের স্থানীয় একটি পত্রিকার সাংবাদিক মুহিবুর রহমান। পেশায় তিনি একজন আইনজীবীও। সিলেটের আদালতে এ মামলা চলাকালে একজন সাক্ষীও ছিলেন মুহিবুর। তিনি বলেন, ‘শরীরে এখনও স্প্রিন্টার আছে। এত বড় ঘটনা, কিন্তু বিচার দীর্ঘ হওয়ায় শরীরের চেয়ে মনের যন্ত্রণা বেশি ছিল। এ যন্ত্রণার অবসান হওয়ার সুযোগ এলো এখন।’
/বিএল/টিএন/







