ফাঁসিকাষ্ঠে নির্বিকার ছিল হরকাতুল জিহাদ (হুজি) নেতা দেলোয়ার হোসেন রিপন। ওই সময় তার চেহারায় বিশেষ কোনও ভাবান্তর দেখা যায়নি। ফাঁসি কার্যকরের পর জঙ্গি রিপন সম্পর্কে কারা সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
সূত্র জানায়, ‘ফাঁসিকাষ্ঠে স্থির ছিল রিপন। জাত অপরাধীদের মতো তার চেহারা ছিল বিকারহীন।’
ফাঁসিকাষ্ঠে নেওয়ার আগে জঙ্গি রিপনকে তওবা পড়ান সিলেট নগরীর শাহ আবু তোরাব জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মুফতি বেলাল উদ্দিন। বুধবার (১২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি তার সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন। ওই সময় তিনিও বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রিপনকে তওবা পড়ানোর সময় তার মাঝে কোনও ভাবান্তর লক্ষ করা যায়নি।’
আজ (বুধবার) রাত ১০টায় রিপনের ফাঁসি কার্যকর হয়। এরপর ময়নাতদন্ত শেষে রিপনের লাশ নিয়ে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয় কারা কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, সিলেটের হযরত শাহজালালের (রা.) মাজারে ২০০৪ সালের ২১ মে আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা হয়। হামলায় আনোয়ার চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত এবং পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন নিহত হন। ওই মামলায় ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিচারিক আদালত পাঁচ আসামির মধ্যে মুফতি হান্নান, শরীফ শাহেদুল বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন রিপনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ১৯ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে মুফতি হান্নানের রিভিউ আবেদন খারিজ করে আগের রায় বহাল রাখেন। এরপর তিন আসামিই রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন। রাষ্ট্রপতি আবেদন খারিজ করে দিলে তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
/এমএ/








