ভারী বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গুড্ডিমারী ইউনিয়নে অবস্থিত তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমিনুর রশীদ।
তিনি আরও জানান, শনিবার তিস্তার পানি বেড়ে যাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ফলে দ্রুত পানি অপসারণের জন্য তিস্তা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। পানি বাড়ায় তিস্তার পারের নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়ে কয়েকশ’ পরিবার পানি বন্দি রয়েছে বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়।
তিস্তায় পানি বাড়ার কারণে হাতীবান্ধা উপজেলার ধুবনী এলাকার দুইটি স্থানে বাঁধ ভেঙে গেছে। এ কারণে আশপাশের এলাকার লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তিস্তা পাড়ে বসবাসকারী অনেকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন।
এলাকাবাসী ও ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, পাটগ্রামের দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গুড্ডিমারী, সিঙ্গিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের চর এলাকার কয়েকটি গ্রামে তিস্তার পানি ঢুকে কয়েকশ’ পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। আমন বীজতলাসহ কিছু কিছু এলাকায় সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। অপরদিকে, নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার চরখড়িবাড়ী ও খালিশা চাপানী এলাকার কয়েকটি এলাকায় পানি ঢুকে লোকজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন জানান, দক্ষিণ ধুবনী এলাকায় ২টি স্থানে বাঁধ ভেঙে গেছে। ফলে ওই এলাকায় বেশকিছু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ভারত থেকে পানি আসায় তিস্তা নদীর পানি বাড়ছে। যে কারণে তিস্তা তীরবর্তী এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে। পানি আরও বাড়তে পারে বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ এনামুল কবির বলেন,‘খবর পেয়ে আমি তিস্তার পানির চাপে ভেঙে যাওয়া ধুবনী বাঁধসহ ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছি। সংশ্লিষ্ট এলাগুলোর ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জরুরি বৈঠকের জন্য ডাকা হয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।’
/জেবি/টিএন/








