লংগদুতে পাহাড়িদের ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনার পর এক মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। তবে এখনও শুরু হয়নি পাহাড়িদের পুনর্বাসন কার্যক্রম। অগ্নিসংযোগের পর পাহাড়িরা এলাকার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ছুটির পর স্কুলগুলো খুলে যাওয়ায় সেই আশ্রয়কেন্দ্রও ছাড়তে হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্তদের। ঘরবাড়ি হারিয়ে তারা এখন বিভিন্ন জায়গায় টংঘর বানিয়ে থাকছেন।
রবিবার (৯ জুলাই) সরেজমিনে লংগদুর তিনটিলা ও মানিকজোড় এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায়, তিনটিলা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কিছু পরিবার লংগদু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ছাত্রী হোস্টেল ভবন, লংগদু সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বাসভবন ও বিদ্যালয় ভবনে আশ্রয় নিয়েছে। মানিকজোড়ন লোকজন মানিকজোড় ছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। ১ জুলাই থেকে বিদ্যালয় খোলার কারণে অনেকে আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়তে শুরু করেছেন। আবার অনেকে বিদ্যালয়ের আশপাশে বেসরকারি আর্থিক সহায়তায় কোনও মতে টংঘর বানিয়ে বাস করছেন।
লংগদু উপজেলা জনসংহতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনি শংকর চাকমা বলেন, ‘আমার যে ঘর ছিল, সেটি বানাতে পাঁচ থেকে ছয় বান্ডেল টিন লেগেছিল। এখন যদি সরকার আমাদের দুই বান্ডেল টিন দেয় তাহলে কিভাবে বাড়ি বানাবো। এই টিনের সঙ্গে বাজারের টিনের কোনও মিল নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হলেও এখনও দৃশ্যমান সহযোগিতা আমরা পাচ্ছি না।’
লংগদু সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কুলিন মিত্র চাকমা (আদু) বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে বারবার আমাদের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। আমরাও ওনাদের কথায় আশাবাদী। জেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন আমাদের সবসময় খবর নিচ্ছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে আমাদের বেশি সমস্যা হচ্ছে। এই সময় প্রায় সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ছে।’ তিনি নিজেও লংগদু সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বাসভবনে উঠেছেন বলে জানান।
লংগদু থানার ওসি ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ইতোমধ্যে দুটি মামলায় ৩০ জনের মতো গ্রেফতার আছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর একটি টিম সব সময় টহলে হয়েছে।’
লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাদ্দেক মেহ্দী ইমাম বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ৪২৬ বান্ডেল টিন ও ১২ লাখ ৭৫ হাজার টাকার আমরা ইতোমধ্যে পেয়েছি। কয়েকদিনের মধ্যে এগুলো বিতরণ করা হবে। সরকারি পর্যাপ্ত বরাদ্দ আছে, আসতে একটু সময় প্রয়োজন ।’
১ জুন লংগদু উপজেলার সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক নুরুল ইসলাম নয়নের লাশ দীঘিনালার চারমাইল এলাকায় পাওয়া যায়। ২ জুন সকালে একটি প্রতিবাদ মিছিল থেকে স্থানীয় পাহাড়িদের দোকান, বসত ঘরসহ চারটি গ্রামের দু’শতাধিক বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়।
৯ জুন খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে রমেল চাকমা ও জুনেল চাকমা নামের দুজনকে গ্রেফতার করা হলে তারা নয়ন হত্যায় জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেয়। মোটরসাইকেলটিও দীঘিনালার মাইনী নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রমেল ও জুনেল পুলিশকে জানায়, মোটরসাইকেল ছিনতাই করার জন্যই তারা নয়নকে হত্যা করে।
/এএম/এসটি/
আরও পড়ুন-
লংগদুর অগ্নিদুর্গতরা টংঘরে
ফিরে আসার উপায় নেই লংগদুর ধ্বংসস্তূপে







