গত দুই দিনে হিলি স্থলবন্দরের পাইকারি বাজারে কেজি প্রতি ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কমেছে ১২ থেকে ১৮ টাকা ও দেশি পেঁয়াজে কমেছে পাঁচ থেকে সাত টাকা। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৪ থেকে ৩২ টাকায়। ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি বেড়ে যাওয়া ও মজুদকৃত দেশি পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ায় দাম কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ঈদের আগে নতুন করে আর দাম বাড়ার কোনও সম্ভাবনা নেই বলেও জানান তারা।
শুক্রবার (২৫ আগস্ট) হিলি স্থলবন্দরের পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভারত থেকে আমদানিকৃত ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ পাইকারিতে (ট্রাকসেল) প্রকারভেদে ২৬ থেকে ২৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। নাসিক জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩২ টাকা কেজি দরে। গত মঙ্গলবারেও ভারত থেকে আমদানিকৃত এসব পেঁয়াজ কেজি প্রতি ৩৮ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।
এদিকে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়, দু’দিন আগেও যা বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়। যেসব কৃষকরা দেশি পেঁয়াজ মজুদ করে রেখেছিলেন, ঈদ চলে আসায় তারাও পেঁয়াজগুলো বাজারে ছেড়ে দিয়েছেন। ফলে বাজারে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম পড়তির দিকে, আবার ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কমার পেছনেও এর প্রভাব আছে বলে মনে করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আগে গড়ে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হতো। কিন্তু সম্প্রতি ভারতে অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে পেঁয়াজের উৎপাদন ব্যাহত হয়। তাই পেঁয়াজের সরবরাহ কমে যায়। এ কারণে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি কমে গিয়ে ২০ থেকে ২৫ ট্রাকে নেমে আসে। এদিকে আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে পেঁয়াজের বাড়তি চাহিদার কথা মাথায় রেখে পেঁয়াজের আমদানি বাড়িয়ে দেন আমদানিকারকরা।
চলতি মাসের ১৯ আগস্ট বন্দর দিয়ে একটি ট্রাকে ২০টন, ২০ আগস্ট ১০টি ট্রাকে ২শ’ ১৫টন, ২১ আগস্ট ২৪টি ট্রাকে ৪শ’ ৯৪টন, ২২ আগস্ট ২৯টি ট্রাকে ৫শ’ ৯৭টন, ২৩ আগস্ট ২৫টি ট্রাকে ৫শ’ ১৯টন ও ২৪ আগস্ট ৪৫টি ট্রাকে ৯শ’ ৩৪টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এভাবে গত ছয় দিনে বন্দর দিয়ে ১শ’ ৩৪টি ট্রাকে ২ হাজার ৭শ’ ৭৯ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, সম্প্রতি বন্যার কারণে ভারতে পেঁয়াজের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রপ্তানি কমিয়ে দিয়েছিল ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। এ কারণে বাংলাদেশে হঠ্যাৎ করে দাম বেড়েছিল পেঁয়াজের। এদিকে বাংলাদেশের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে ক্রেতা সংকট দেখা দেয় এখানে। আবার ভারতের অবস্থা কিছুটা উন্নতি হওয়ায় আমদানি বাড়িয়ে দেন ভারতের ব্যবসায়ীরা। ফলে পেঁয়াজের মূল্য কমে যায়।
হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী হারুন উর রশীদ ও মামুনুর রশীদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ঈদুল আজহাকে ঘিরে বাড়তি চাহিদার কথা মাথায় রেখে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানির পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছেন বন্দরের আমদানিকারকরা। তবে ভারতে বন্যার কারণে ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তিন দিন পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ ছিল। তবে এখন শুধু হিলি স্থলবন্দর দিয়ে নয়, দেশের সবগুলো বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি আগের তুলনায় বেড়ে গেছে। যার ফলে দেশের বাজারে চাহিদার তুলনায় আমদানিকৃত ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ বেশ বেড়েছে। অপরদিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্প্রতি বন্যা দেখা দেওয়ায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পেঁয়াজের চাহিদা কমে যাওয়ায় হিলি স্থলবন্দরে আমদানিকৃত পেঁয়াজের ক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে।
এছাড়াও ভারত থেকে যেসব পেঁয়াজ আসছে সেগুলো বৃষ্টিতে ভেজার কারণে মান কিছুটা খারাপ হয়েছে। পেঁয়াজ পঁচে নষ্ট হওয়ার ভয়ে কম দামে বিক্রি করছেন আমদানিকারকরা। এতে দুই দিনের ব্যবধানে হিলি স্থলবন্দরে আমদানিকৃত পেঁয়াজ প্রকারভেদে কেজিতে ১২ টাকা থেকে ১৮ টাকা করে দাম কমেছে।








