কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী কয়েকজন শিক্ষক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক বরাবর এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির তথ্য যাচাই, তথ্য অনলাইনে দেওয়া ও প্রাথমিকভাবে এমপিও আদেশ পাওয়া শিক্ষকদের সনদ যাচাই বাবদ তিনি বিভিন্ন অঙ্কের টাকা আদায় করছেন। তবে কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসার খন্দকার আলাউদ্দীন আল আজাদ তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী কয়েকজন শিক্ষক জানান, জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের নিয়োগ দেওয়া শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির জন্য জেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে উপপরিচালক বরাবর সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কাগজপত্র অনলাইনে পাঠাতে হয়।
কিন্তু জেলা শিক্ষা অফিসার খন্দকার আলাউদ্দীন আল আজাদ গত মে মাসে জেলায় যোগদানের পর থেকে এমপিওভুক্তির আবেদনের জন্য প্রত্যেক প্রার্থীর নিকট বিভিন্ন অঙ্কের টাকা ঘুষ দাবি করছেন এবং নানা হররানির পর সে টাকা আদায়ও করছেন।
শিক্ষা অফিসারের এই টাকা আদায় ও হয়রানির বিষয়টি উল্লেখ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক ও পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন কয়েকটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।
অভিযোগে বলা হয়, জেলা শিক্ষা অফিসার খন্দকার আলাউদ্দীন আল আজাদ শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন প্রতি ২০ হাজার টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ আদায় করেছেন। আবেদনকারী শিক্ষকদের তার কক্ষের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখেন। একজন একজন করে রুমে ডেকে নিয়ে তাদের মোবাইল ফোন নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন, যেন কেউ কথোপকথোন রেকর্ড কিংবা অর্থ লেনদেনের ছবি বা ভিডিও রেকর্ড করতে না পারেন।
অন্য এক শিক্ষকের লিখিত অভিযোগে বলা হয়, জেলা শিক্ষা অফিসার এমপিও আবেদন অনলাইনে দেওয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। সেজন্য তার এমপিও তথ্য অনলাইনে দিতে উপপরিচালক বরাবর ফাইল পাঠাননি। আবেদনকারী শিক্ষদেরকে কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ অভিযেগের প্রেক্ষিতে মাউশির সহকারী পরিচালক সাখায়েত হোসেন বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষককে প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য চিঠি দিয়েছেন।
নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা ডিগ্রি কলেজের ওই শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বিদ্যালয়ের সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কোনও ধরনের লেনদেন ছাড়াই ফাইল অনলাইনে দেওয়ার শর্তে অভিযোগ প্রত্যাহার করতে সম্মত হয়েছি। অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহপরিচালক বরাবর আবেদনও পাঠিয়েছি।
একই অভিযোগে মাউশির মহাপরিচালক ও পরিচালক বরাবর আবেদন করেছেন জেলার উলিপুর উপজেলার একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনি তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, বিদ্যালয়ের সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে এমপিওভুক্তির আবেদন পাঠানো বাবদ জেলা শিক্ষা অফিসার খন্দকার আলাউদ্দীন আল আজাদ গ্রন্থাগারিকের কাছে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, শিক্ষা অফিসার এমপিওভুক্তির নামে শিক্ষকদের কাছে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।’
এছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির আদেশ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সনদ যাচাই করার জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোটা অঙ্কের ঘুষ আদায় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জেলার ফুলবাড়ী, রাজিবপুর ও চিলমারী উপজেলার কয়েকজন ভুক্তভোগী শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য জানান।
কুড়িগ্রাম শিক্ষক সমিতি সভাপতি আব্দুল মালেক বলেন, ‘জেলা শিক্ষা অফিসার খন্দকার আলাউদ্দীন আল আজাদের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়া ও শিক্ষকদের হয়রানির অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা। শিক্ষকদের সহায়তার জন্য আমি নিজেও তাকে কয়েকবার অনুরোধ করেছি, কিন্তু তিনি এরপরও শিক্ষকদের নানাভাবে হয়রানি করছেন বলে কয়েকজন শিক্ষক আমাকে জানিয়েছেন।’
বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসার খন্দকার আলাউদ্দীন আল আজাদ বলেন ‘এগুলো ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। এখন এমপিও অনলাইনে হয়, এমপিও’র জন্য আমার অফিসে আসার কোনও প্রয়োজন নেই। ফাইল সঠিক থাকলে আমি কোনও বিলম্ব করি না। আর সনদ যাচাই তাৎক্ষণিকভাবে করা সম্ভব নয়, এজন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সত্যতা যাচাই করতে হয়। সেজন্য বিলম্ব হতেই পারে।’








