উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তম চামড়ার হাট গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কালীবাড়ী চামড়ার হাটে এবার বিকিকিনি জমেনি। ক্ষুদ্র ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা গ্রাম ও শহর ঘুরে চড়া দামে চামড়া কিনে এই হাটে নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু হাটে ট্যানারি ও বিভিন্ন কোম্পানির ক্রেতারা তেমন না আসায় অনেকে চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। অনেক ব্যবসায়ী কম দামে চামড়া বিক্রি করে পুঁজি হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন।
রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক ঘেঁষে পলাশবাড়ী উপজেলার কালীবাড়ী বাজারে বসে এই চামড়ার হাট। প্রতি বছর ঈদুল আজহার পরের বুধবার বসে এ হাট। ভোর থেকে শুরু হওয়া বৃহত্তর এ হাটে উত্তরাঞ্চলের আট জেলা ছাড়াও জয়পুরহাট, নওগাঁ, নাটোর, রাজশাহী, বগুড়া ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার চামড়া ব্যবসায়ীরা আসেন। প্রতিবছর এ হাটে চামড়ার ব্যাপক আমদানি থাকলেও এ বছর তা অর্ধেকেরও কম। এছাড়া, চামড়ার দাম না পেয়ে হতাশ আর লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
গোবিন্দগঞ্জ থেকে আসা মৌসুমি ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলাম জানান, প্রতি বছর তিনি ১০ থেকে ১৫ হাজার গরুর চামড়া কিনতেন। কিন্তু এবার দাম কম হওয়ায় তিনি মাত্র তিন হাজার গরুর চামড়া কিনেছেন। প্রতি চামড়ায় লবণ ও পরিবহন খরচসহ ১ হাজার ৩৭৬ টাকা পড়ে। এখন হাটে সেই চামড়ার দাম উঠছে ১২০০ টাকা। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আলম মিয়া বলেন, ‘গত বছর বড় গরুর চামড়ার দাম ছিল ১৮০০ থেকে ৩০০০ হাজার টাকা। কিন্তু এবার চামড়া কিনেছি মাত্র ৭০০ থেকে ১৫০০ টাকায়। ৫ দিন ধরে ১ হাজার চামড়ায় লবণ, শ্রমিক ও পরিবহন সব মিলিয়ে খরচসহ পড়েছে প্রতি পিস ১৮০০ টাকা। অথচ সেই চামড়া গড়ে দাম উঠছে ১৬০০ টাকা।
পলাশবাড়ী চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিনু মণ্ডল বলেন, ‘মাঠপর্যায় থেকে চামড়া সংগ্রহে ট্যানারি কর্তৃপক্ষ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কমমূল্য বেঁধে দেওয়া, পাওনা টাকা আদায় না হওয়া ও বেশি দামে লবণ কেনার জন্য এবার লোকসান আর পুঁজি হারিয়ে চোখে-মুখে অন্ধকার দেখছেন মৌসুমি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। সময় থাকতে চামড়া ব্যবসায়ীদের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে।’
হাট ইজারাদার শফিকুল ইসলাম মিন্টু বলেন, ‘দাম কম আর আমদানি কম থাকায় এবার এ হাটে কি পরিমাণ চামড়া ক্রয়-বিক্রয় হবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আগামী বুধবার এ হাটে ঢাকাসহ বিভিন্ন ট্যানারিসহ কোম্পানির লোকজন আসলে হয়তো ভালো দাম পাওয়া যাবে।’








