গাজীপুরের কালীগঞ্জে স্বামীর হাতে নির্যাতনের শিকার চার সন্তানের জননীকে (৩৬) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করানো হয়েছে। ঘটনার চার দিন পর সোমবার বিকালে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার (ইউএনও) মু. মুশফিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের সহযোগীতায় তাকে ঢামেকে পাঠানো পাঠানো হয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার শাহানাজ আক্তার ও নির্যাতনের শিকার ওই নারীর মা জানান, আহতাবস্থায় তাকে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যোল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে রেফার্ড করে। কিন্তু অর্থাভাবে ঢাকায় না গিয়ে ফেরত এসে পুনরায় কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন তিনি। এ খবরটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দার মু. মুশফিকুর রহমানের নজরে আসে। তিনি রবিবার কালীগঞ্জের হাসপাতালে যান এবং ওই নারীর চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন। এসময় তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেকের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে যোগাযোগ করে সেখানে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সোমবার তাকে উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের সহযোগীতায় ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। বিকাল সাড়ে চারটার দিকে তাকে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. আবুল কালামের অধীনে গ্রীন ইউনিটে ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ওই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. প্রদীপ চন্দ্র দাস।
ব্র্যাক কালীগঞ্জ শাখার প্রতিনিধি রাশেদুল হক জানান, ব্র্যাকের লিগ্যাল সাপোর্টে নারী নির্যাতন আইনে মরিয়ম বেগমের স্বামী তমিজ উদ্দিনের (৫০) বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এ ঘটনায় শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে পুলিশ ওই গৃহবধূর স্বামী তমিজ উদ্দিনকে (৫০) গ্রেফতার করেছে। ওই নারী শ্রমিক হিসেবে লেবাননে কাজ করতেন।
তমিজ উদ্দিন কালীগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জ পৌর এলাকার বালীগাঁও গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে।
নির্যাতনের শিকার ওই নারীর মা ও স্বজনরা জানান, প্রায় দেড় যুগ আগে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের কাজৈর গ্রামের তৈয়ব আলীর মেয়ের সঙ্গে তার মামাতো ভাই তমিজ উদ্দিনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে চারটি ছেলে সন্তান রয়েছে। স্থানীয় এক কারখানার পাশে তমিজ উদ্দিনের চায়ের দোকান রয়েছে। সংসারের অভাব অনটন মেটাতে প্রায় চার বছর আগে স্বামীর সম্মতিতেই লেবাননে নারী শ্রমিক হিসেবে কাজে যান তার স্ত্রী। সেখান থেকে দুই বছর পর দেশে ফিরে আসেন তিনি। প্রথম স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তমিজ উদ্দিন আরও পাঁচটি বিয়ে করেন। তবে সেগুলো টেকেনি। এদিকে প্রথম স্ত্রী দেশে ফিরে আসার পর পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া বিবাদ চলে আসছিল। এর জের ধরে ঈদের একদিন পর ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চারদিন ঘরে আটকে রেখে তমিজ উদ্দিন তার স্ত্রীকে নানাভাবে নির্যাতন করেন। একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার রাতে তমিজ উদ্দিনের বড় ছেলে তামিম বিষয়টি কালীগঞ্জ থানা পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাড়ি থেকে গুরুতর আহত ওই গৃহবধূকে বিবস্ত্র অবস্থায় উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ জানান, তমিজ উদ্দিন লোহার রড গরম করে তার গোপনাঙ্গ ও হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দিয়েছে এবং স্তনের কিছু অংশ কেটে ফেলেছে।
কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান জানান, নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূকে বিবস্ত্র অবস্থায় তার স্বামীর বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্বামী তমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন ওই গৃহবধূ। পুলিশ তমিজ উদ্দিনকে শনিবার গ্রেফতার করেছে।








