বরিশাল নগরীর পপুলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় দেড় একর খেলার মাঠজুড়ে কৌশলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে মাছ চাষ করার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তিনি নিজেই সেখানে সকাল-বিকাল দুই বেলা নিয়ম করে মাছের খাবার দিয়ে থাকেন বলেও জানা গেছে। এ কারণে বিদ্যালয়টির প্রায় আটশ’ শিক্ষার্থী খেলাধুলা, শরীর চর্চা ও বিনোদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়রা জানান, দুই-চার দিন বৃষ্টি না-হলে মাছ চাষ অব্যাহত রাখতে পার্শ্ববর্তী পুকুর ও খাল থেকে সেচের মাধ্যমে স্কুলের মাঠে পানি উত্তোলন করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির মাঠে হাঁটু পানি জমে আছে। সেখানেই চাষ করা হচ্ছে মাছ। মাঠের পানি নিষ্কাশনের জন্য সুব্যবস্থা থাকলেও তাতে বাঁধ দিয়ে জলাবদ্ধতা তৈরি করা হয়েছে। মাঠের দু’দিকে দুইটি পুকুর আছে। স্কুল মাঠের মাছ যাতে বেরিয়ে যেতে না পারে সেজন্য বাঁধ এবং বাঁধের ওপর নেটের জাল রাখা হয়েছে। এছাড়া মাঠের পানিতে মাছের খাদ্য ব্যবহার করার ফলে পানি ও সেখানকার শিক্ষার পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে।
বেশ কয়েকজন স্থানীয় অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যালয়ে ক্লাস শুরুর আগে শারীরিক শিক্ষা (পিটি) প্রশিক্ষণ করানো বাধ্যতামূলক থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা আগে স্কুলের মাঠে খেলাধুলা করলেও এবার আর তা পারছে না।
এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন জানান, চলতি বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানির সঙ্গে পার্শ্ববর্তী পুকুর থেকে অনেক দেশীয় কৈ মাছ উঠে আসে বিদ্যালয়ের মাঠে। এরপর ওই মাছ ডিম ছাড়লে তা রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি নিজেই এ কাজটি করছেন বলেও নিশ্চিত করেছেন।
বিদ্যালয়টির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি আনিছুর রহমান দুলাল জানান, গত দুই মাস আগে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। এ সময়েই এ ঘটনা ঘটে। এটি বিদ্যালয়ের স্বার্থেই করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘মাঠটিতে হাজার হাজার কৈ মাছের পোনা বড় হচ্ছে। বিদ্যালয় কমিটি এগুলো খাবারের জন্য রাখেনি বরং মাছগুলো বড় হলে বিক্রি করে সেই টাকা বিদ্যালয়ের কাজেই খরচ করা হবে।’
তবে বিদ্যালয়ের মাঠে মাছ চাষের বিষয়টি জানা নেই বলে জানিয়েছেন জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে মোবাইলে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।







