বগুড়ার আদমদীঘিতে মরিয়ম বেওয়া (৬৫) নামে এক বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) রাতে ডহরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বৃদ্ধার মেয়ে মনোয়ারা বিবির প্রাক্তন স্বামী শফিকুল ইসলামকে (৩২) আটক করেছে পুলিশ। আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সায়িদ মো. ওয়াহেদুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
নিহতের মেয়ে মনোয়ারা বিবির অভিযোগ, তাকে ফিরে পাওয়ার চেষ্টায় বাধা দিলে মরিয়ম বেওয়াকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন শফিকুল।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার পুরান্তপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম প্রায় ৮ বছর আগে রংপুরের হারাগাছা উপজেলার মিনাজবাজার গ্রামের মৃত নূর রহমানের মেয়ে মনোয়ারা বিবিকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তারা বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা সদরে পৃথক চাতালে শ্রমিকের কাজ করে আসছিলেন। মরিয়ম বেওয়াও চাতাল শ্রমিক।
মনোয়ারা বিবি জানান, পারিবারিক কলহের জেরে তিনি প্রায় এক মাস আগে শফিকুল ইসলামকে তালাক দেন। এরপর থেকে শফিকুল তাকে আবার ফিরিয়ে নিতে চেষ্টা শুরু করেন। কিন্তু এক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ান মরিয়ম বেওয়া। এতে শফিকুল মরিয়ম বেওয়ার ওপর ক্ষুব্ধ হন। শুক্রবার সন্ধ্যায় শফিকুল মোবাইল ফোনে মনোয়ারাকে দেখা করতে বলেন। অন্যথায় মনোয়ারার বড় ধরনের বিপদ হতে পারে বলেও শফিকুল হুমকি দেন। মনোয়ারা দেখা না করলে শফিকুল ডহরপুর এলাকায় আনন্দ কুণ্ডুর চাতালে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মরিয়ম বেওয়াকে কুপিয়ে পালিয়ে যান।
মনোয়ারা জানান, পরে স্থানীয়রা তার মা মরিয়মকে উদ্ধার করে প্রথমে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাত ১টার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বগুড়ার ছিলিমপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আশুতোষ মিত্র জানান, মাথায় বটির আঘাতে গুরুতর আহত মরিয়ম বেওয়া শজিমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।
ওসি আবু সায়িদ মো. ওয়াহেদুজ্জামান জানান, মরিয়মের মৃত্যু রহস্যজনক। শফিকুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শনিবার বিকাল পর্যন্ত মামলা হয়নি। লাশ শজিমেক হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। নিহতের পরিবার মামলা করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।








