সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় মুঠোফোন চুরির অভিযোগে মানসিক ভারসাম্যহীন অজ্ঞাত এক তরুণকে (২৫) নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। উপজেলার সুখাইড় বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা সুখাইড় বাজারের পাশে বৌলাই নদীর খনন কাজ করেন। গত বুধবার (২১ মার্চ) রাত সাড়ে তিনটা থেকে বৃহস্পতিবার (২২ মার্চ) সকাল পর্যন্ত ওই যুবককে নির্যাতন করা হয়।
অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ড্রেজার ইঞ্জিনিয়ার কার্তিক কুমার ঘোষ জানান, দুই সপ্তাহ আগে আমাদের তিনটি মোবাইল চুরি হয়েছে। হাত, পা বেঁধে কাউকে মারধর করা হয়নি। ওই তরুণকে হাউজবুটে মোবাইল চুরির অপরাধে সামান্য একটু মারধর করার পরে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইমান আলীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তবে এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৬-৭ মাস ধরে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে বৌলাই নদীতে ‘নূরুজ্জামান খান’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খনন কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। গত বুধবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে হাউজবুটের জানালা দিয়ে শ্রমিক সোহাগ মিয়ার কক্ষে ওই মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণ ঢুকে পড়ে। এসময় সোহাগ মিয়ার মুঠোফোনে হাত দিলে সোহাগ মিয়া ওই তরুণকে মারধর করে সেখানে আটকে রাখে। পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল সাতটা থেকে আটটা পর্যন্ত ওই তরুণকে বেঁধে গাছের ডাল দিয়ে বেশ কয়েকদফা পেটায় খনন কাজে থাকা শ্রমিক কার্তিক কুমার ঘোষ, জামিল মিয়া, সোহাগ মিয়া ও তাজুল ইসলাম।
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য ইমান আলী বলেন, ‘ওই তরুণটি মানসিক ভারসাম্যহীন। আমি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গাছের খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে ওই যুবকের হাত-পা ও কোমর বাঁধা অবস্থায় দেখতে পাই। তাকে কার্তিক কুমার ঘোষ, জামিল মিয়া, সোহাগ মিয়া ও তাজুল ইসলাম লাঠি দিয়ে কয়েকবার মারধর করেছে বলে স্থানীয় লোকজন আমাকে জানিয়েছে। আমি এতে প্রতিবাদ করায় তারা ওই তরুণের বাঁধন খুলে আমার কাছে হস্তান্তর করেছে। কিন্ত এর পরপরই আগে চুরি হওয়া মোবাইল চোরের অনুসন্ধান করতে আমার কাছ থেকে ওই তরুণকে নিয়ে যায় তারা।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োজিত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খায়রুল মোমেন জানান, মোবাইল চুরির অপরাধে এক তরুণকে হাউজবুটের ভেতরে ধরা হয়েছিল বলে আমাকে জানানো হয়েছে। আমি বলেছি স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছে ওই তরুণকে হস্তান্তর করার জন্য। তাকে রশি দিয়ে বেঁধে লাঠি ও ডালপালা দিয়ে মারধর করার বিষয়টির আমার জানা নেই।
ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুরঞ্জিত তালুকদার জানান, স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








