খুলনায় মনোনয়নপত্র নিয়েই প্রচারণায় মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা

মো. হেদায়েৎ হোসেন, খুলনা
১০ এপ্রিল ২০১৮, ২০:০০আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৮, ২০:১০

সম্ভাব্য প্রার্থীর পোস্টার (ছবি- প্রতিনিধি)

মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেই প্রচার-প্রচারণায় নেমেছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) ৮ মেয়র পদপ্রার্থীসহ মোট ৩৩৮ জন প্রার্থী। মিছিল নিয়ে মেয়র প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের কাছে। সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরাও ছুটছেন। বসে নেই তাদের সমর্থকরাও। নিজ দলের প্রার্থীকে মেয়র, কাউন্সিলর বানাতে গণসংযোগে নেমেছেন দলীয় নেতাকর্মীরাও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেয়রের একটি, সাধারণ কাউন্সিলরের ৩১টি ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরের ১০টিসহ ৪২টি পদের জন্য ইতোমধ্যে ৩৩৮ প্রার্থী আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এরপর থেকে প্রার্থীরা মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে ভোটারদের কাছে ছুটছেন। ভোট চেয়ে লিফলেট বিতরণ কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রার্থীরা মিছিল-সমাবেশও করছেন।

মনোনয়নপত্র সংগ্রহের আগে থেকেই নির্বাচনকে ঘিরে পুরো নগরীতে উৎসবের আমেজ বইছে। ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে নগরীর অলিগলি, রাস্তাঘাট।

এদিকে, এসব প্রচারাভিযান থেকে পরস্পরের বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি অমান্য করার অভিযোগ করছেন মেয়র-কাউন্সিলর প্রার্থীরা। তবে নির্বাচন কমিশন সূত্র বলছে, তাদের কাছে এখনও কেউ নির্বাচনি আচরণবিধি অমান্য করার অভিযোগ করেনি।

সম্ভাব্য প্রার্থীর পোস্টার (ছবি- প্রতিনিধি)

নির্বাচনি প্রচারণা প্রসঙ্গে খুলনা মহানগর বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক সামসুজ্জামান চঞ্চল বলেন, ‘আমাদের মনোনীত মেয়র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চলছে। একে আরও বেগবান করতে আজ  (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় পার্টি অফিসে আমাদের নেতাকর্মীদের নিয়ে যৌথসভা হবে। ওই সভা থেকে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে বিজয়ী করতে প্রয়োজনীয় করণীয় নির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিষয়েও আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইতোমধ্যেই বিএনপির সমর্থন চেয়ে আবেদনকারী ১৩৮ জনের সাক্ষাতকার গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।’

মহানগর আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক মুন্সী মাহাবুব আলম সোহাগ বলেন, ‘দলের মনোনীত মেয়র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি কৌশল ও প্রচারণার ধরন নির্ধারণে আগামীকাল (বুধবার) সন্ধ্যায় মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত-সভা ডাকা হয়েছে। ওই সভা থেকেই প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করে তালুকদার আব্দুল খালেকের পক্ষে আরও বড় পরিসরে প্রচারণা কার্যক্রম চালানো হবে। এবার সবাই নৌকার পক্ষে একজোট। পরিকল্পিতভাবে প্রচারণার মাধ্যমে খালেককে মেয়র নির্বাচিত করার জন্য সম্মিলিত প্রয়াস চালানো হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কাউন্সিলরদের মনোনয়ন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা নিজেই দিয়েছেন। বড় দলে প্রত্যাশা পুরণ না হওয়ায় মনোকষ্ট থাকতেই পারে অনেকের। তবে তা ক্ষোভে রূপ দিয়ে জনমনে ছড়িয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। কোনও প্রার্থী বা তার পক্ষে এ ধরনের আচরণের ঘটনা ঘটলে তা আমাদের জন্য দুঃখজনক ব্যাপার হবে। ওই ওয়ার্ডে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া ব্যক্তিরই উচিত বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সংশ্লিষ্টদের শান্ত রাখা। আমরা বর্ধিত-সভায়ও এ বিষয়ে আলোচনা করবো। সেখান থেকেই পরবর্তী দিক-নির্দেশনা স্থানীয় শীর্ষ নেতারা দেবেন।’

সম্ভাব্য প্রার্থীর পোস্টার (ছবি- প্রতিনিধি)

অভিযোগ রয়েছে, ৩১ মার্চ নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পর ১ এপ্রিল ১৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাফিজুর রহমান হাফিজ মোটরসাইকেল নিয়ে এলাকায় মহড়া দিয়েছেন। কাউন্সিলর হাফিজ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মাহবুব কায়সার অভিযোগ করে বলেন, ‘ওয়ার্ডের সম্ভাব্য প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ বিকু কাজী এলাকায় রঙিন লিফলেট বিতরণ করছেন। এলাকায় তার পক্ষে মিছিলও হয়েছে। নির্বাচনে রঙিন পোস্টার নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তা মানা হচ্ছে না।’ সম্ভাব্য প্রার্থী বিকু কাজী বলেন, ‘নির্বাচনি আচরণবিধি মেনেই প্রয়োজনীয় প্রচারণা চালানো হচ্ছে।’

সম্ভাব্য প্রার্থীর পোস্টার (ছবি- প্রতিনিধি)

নগরবাসী বলছেন, নির্বাচন উপলক্ষে পোস্টার, ব্যানার, দেয়াল লিখন, বিলবোর্ড, তোরণ প্যান্ডেল ও আলোকসজ্জাসহ প্রচার সামগ্রী এবং নির্বাচনি ক্যাম্প অপসারণ করার জন্য অনুরোধ করা হলেও তা মানছেন না কেউ কেউ। যত দিন যাচ্ছে ততই এসব প্রচার সামগ্রীর ছড়াছড়ি বাড়ছে। মহানগরজুড়ে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের ব্যানার, পোস্টারের ছড়াছড়ি শুরু হয়েছে। পাড়া-মহল্লায় হচ্ছে মিছিল সমাবেশ।

কেসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুস আলী বলেন, ‘নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনও অভিযোগ আমি এখনও পাইনি। নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পর মহানগরী এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার, দেয়াল লিখন, বিলবোর্ড, তোরণ, প্যান্ডেল ও আলোকসজ্জাসহ প্রচারসামগ্রী ৮ এপ্রিল রবিবার রাত ১২টার আগে ব্যক্তিগত উদ্যোগে অপসারণের জন্য বলা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা অপসারণ না করার ফলে জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন থেকে অভিযান চলছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এপর্যন্ত মেয়র পদে ৮ জনসহ ৩৩৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। ১২ এপ্রিল পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দেওয়া-নেওয়া হবে।’

/এমএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু 
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু 
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম