খুলনায় নির্বাচন ঘিরে ব্যস্ততা বেড়েছে ছাপাখানায়

মো. হেদায়েৎ হোসেন, খুলনা
২৭ এপ্রিল ২০১৮, ১৭:৪২আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০১৮, ১৭:৫৮

পোস্টার-লিফলেট ছাপানো হচ্ছে (ছবি- প্রতিনিধি)

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচন উপলক্ষে প্রচারণায় ব্যস্ত মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের প্রার্থীরা। তারা তাদের ছবি ও প্রতীক-সংবলিত পোস্টার, ব্যানার আর ফেস্টুন টাঙাচ্ছেন নগরজুড়ে। আর প্রার্থীদের প্রচারণার সরঞ্জাম ছাপাতে ব্যস্ততার ধুম পড়েছে ছাপাখানাগুলোতে।

আগামী ১৫ মে কেসিসি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ৫ জন মেয়র প্রার্থী, ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৪৮ জন ও ১০টি সংরক্ষিত আসনে ৩৯ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন। নির্বাচনে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৪৫৩ জন ভোটার ভোট দেবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুলনায় ছাপাখানা রয়েছে দেড়শ’। এর মধ্যে বড় ছাপাখানা রয়েছে ২৭টি। বিন্দুমাত্র অবসরের সময় নেই এসব ছাপাখানার কর্মীদের। দিন-রাত কাটছে তাদের ব্যস্ততায়।

মেয়র-কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি এক হাজার পোস্টারে দুই হাজার টাকা ও প্রতি এক হাজার লিফলেটে পাঁচশ’ টাকা খরচ হচ্ছে। এই হিসাবে একজন প্রার্থীর ১০ হাজার পোস্টার ও ২০ হাজার লিফলেট ছাপাতে খরচ হচ্ছে ৪০ হাজার টাকা।

মহানগরীর ১৮নং ওয়ার্ডের স্বতন্ত্র কাউন্সিলর প্রার্থী এস এম আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি স্বরস ছাপাখানায় প্রতি হাজার পোস্টার দুই হাজার টাকা ও প্রতি হাজার লিফলেট পাঁচশ’ টাকায় ছাপাচ্ছেন। এ ছাড়া, আরও নানা ধরনের খরচ আছে, যা নির্বাচনি ব্যয়সীমার মধ্যে কুলিয়ে ওঠা কঠিন। নির্বাচন কমিশনের উচিত ব্যয়সীমা বাড়ানো।

গভীর রাতে কাজ চলছে ছাপাখানায় (ছবি- প্রতিনিধি)

স্বরস প্রিন্টিং প্রেসের মো. সজীব জানান, তারা প্রার্থীদের কাছ থেকে ন্যূনতম খরচ নিচ্ছেন। অন্য সময় প্রতি হাজার পোস্টার ছাপাতেই তিন থেকে চার হাজার টাকা করে নিতেন তারা। তবে নির্বাচনি মৌসুম হওয়ায় দুই হাজার করে নিচ্ছেন।

মধুমতি মুদ্রণালয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম জাকির হোসেন বলেন, কাজ বেশি আসায় কর্মীরা আনন্দ নিয়ে তা করছে। কিন্তু প্রার্থীরা তো নির্ধারিত রেটে পোস্টার-লিফলেট ছাপাচ্ছেন না। মজুরি দেওয়ার সময় কর্মীদের বাড়তি অর্থ দিতে না পারলে তাদের মনটা খারাপ হয়।

ডিজিটাল প্রিন্টিং ফার্ম শিল্প রংয়ের মালিক ওমর ফারুক রাজু বলেন, ঝড়-বৃষ্টির কারণে কাগজের পোস্টার ছিঁড়ে যায়। এতে অর্থের অপচয় হচ্ছে। ডিজিটাল ব্যানারে সে সমস্যা নেই।

খুলনার ফ্রেন্ডস প্রিন্টার্সের মিজানুর রহমান মোড়ল বলেন, পোস্টার ও লিফলেট ছাপানোর অর্ডার আসা কমছে। এখন যে প্রার্থীর বাড়তি প্রয়োজন হচ্ছে, তিনি ফোনে জানিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু আমরা ছাপার কাজ শেষ করতে পারছি না। যখন যতটুকু ছাপা হচ্ছে ততটুকুই প্রার্থীদের সরবরাহ করছি। এভাবে ভাগে ভাগে প্রার্থীদের পোস্টার সরবরাহ করা হচ্ছে।

কোহিনূর প্রিন্টিং প্রেসের কলিমুর রহমান বলেন, খুলনা মহানগরে দেড়শ’ ছাপাখানা থাকলেও কাজ হয় ২৭টি বড় ছাপাখানায়। তারাই ছোট ছাপাখানাগুলোতে কমিশনে কাজ সরবরাহ করছে। ফলে ওই সব ছোট ছোট ছাপাখানাও টিকে থাকতে পারছে।

 

/এমএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ওপেনএআই’র নতুন বাজি ‘কোডেক্স’
ওপেনএআই’র নতুন বাজি ‘কোডেক্স’
বহু কাজ এখনও বাকি, কীভাবে চালু হবে শিশু হাসপাতাল
বহু কাজ এখনও বাকি, কীভাবে চালু হবে শিশু হাসপাতাল
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন তো ইয়ামাল? 
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন তো ইয়ামাল? 
রাজশাহীতে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল
রাজশাহীতে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের