কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে বান্দরবান শহরের লেমু ঝিড়ি পাড়ায় এক একর জমির ওপর ইক্ষু গবেষণা কেন্দ্রের দু’টি ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। অভিযোগ উঠেছে, ভবন দু’টি নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আতিক অ্যান্ড কোং ও জামালিয়া এন্টারপ্রাইজ।
বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে লেমু ঝিড়ি পাড়ায় দু’টি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। বেশ জোরেসোরেই নির্মাণ কাজ করছে আতিক অ্যান্ড কোং ও জামালিয়া এন্টারপ্রাইজ। এর মধ্যে ৩৬ লাখ টাকায় ইক্ষু প্রক্রিয়াজাতকরণের ক্রসিং সেট নির্মাণ করছে আতিক অ্যান্ড কোং এবং ৪৪ লাখ টাকায় দোতলা অফিস ভবন নির্মাণ করছে জামালিয়া এন্টারপ্রাইজ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আতিক অ্যান্ড কোং এর মালিক আওয়ামী লীগ নেতা আতিকুর রহমান। আর জামালিয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক বদরুল হক নামে এক ব্যক্তি। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবন দু’টি নির্মাণে আতিকুর রহমান ও বদরুল হকের নির্দেশে শ্রমিকরা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করছেন।
স্থানীয়রা জানান, বান্দরবান এমনিতেই ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। এখানে সরকারিভাবে পাঁচতলার চেয়ে উঁচু ভবন নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয় না। এই অবস্থায় ইক্ষু গবেষণা কেন্দ্রের দুই ভবন নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। এটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া, নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় এ ভবন দু’টি নির্মাণের অল্প দিনের মধ্যেই পরিত্যক্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপে জানা যায়, নির্মাণকাজে নিম্নমানের (৪০ গ্রেড) রড ও নিম্নমানের বোল্ডার পাথর (অবৈধভাবে স্থানীয় ঝিড়ি থেকে তোলা) ব্যবহার করছেন তারা। বোল্ডার পাথরের সঙ্গে আবার পুরনো কংক্রিট ও সিমেন্ট মেশানো হচ্ছে, যা দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে পিলার। শ্রমিকরা জানান, ঠিকাদারদের নির্দেশে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়েই তারা নির্মাণ কাজ চালিয়ে আসছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শ্রমিক বলেন, ‘এর আগে আমি এত নিম্নমানের কাজ করিনি। একটি রডও ভালোমানের দেওয়া হয়নি। সব মিলিয়ে খুবই নিম্নমানের কাজ হচ্ছে এখানে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঠিকাদারেরা কাজ শুরুর সময় একবার এসেছিল। এরপর তারা আর তদারকি করতে এখনও পর্যন্ত আসেনি। সবকিছু কাজের মাঝিকে বুঝিয়ে দিয়ে গেছে।’
নির্মাণ কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা মো. নুরু মিস্ত্রি বলেন, ‘এখানে ঠিকাদারেরা আমাদের যা দিতে বলেছে, আমরা তাই দিচ্ছি। সবাই ঠিকমতো কাজ করছে কিনা বা কোনও সমস্যা আছে কিনা, এটাই কেবল আমি তদারকি করছি। এর বাইরে অন্য কিছু আমি জানি না।’
এ ব্যাপারে কথা বলতে ঠিকাদার বদরুল হকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি তা ধরেননি।
অন্য ঠিকাদার আতিকুর রহমান মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আমি এখন চট্টগ্রামে আছি। ব্যস্ত। আপনারা লেমু ঝিড়ি আগা পাড়ায় ইক্ষু গবেষণা কেন্দ্রের ভবন দু’টির নির্মাণ কাজ দেখতে এসেছেন, শুনেছি। আমি আগামী সপ্তাহে বান্দরবান এসে এ বিষয়ে আপনাদের সঙ্গে কথা বলবো।’







