নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের পাল্টা আন্দোলনে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে খুলনায় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জরুরি বৈঠকে ১০ দফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় খুলনা সার্কিট হাউস অডিটরিয়ামে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাত্রদের ক্লাসে ফেরাতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করলো তা প্রতিদিন প্রতিবেদন আকারে জেলা প্রশাসককে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
খুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শুক্রবার সন্ধ্যায় খুলনা সার্কিট হাউজে জরুরি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান। সভায় সংসদ সদস্য মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, খুলনা সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ুন কবীর ও পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। মহানগরীর বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষ এবং স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা ও ছাত্র প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।
সভায় প্রশাতনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঢাকায় দুই শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ৯ দফা দাবি ইতোমধ্যে সরকার মেনে নিয়েছে। নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী ২০ লাখ টাকা করে আর্থিক সাহায্য প্রদান করেছেন। অভিযুক্ত চালককে আটক করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। নিহত দুই শিক্ষার্থীর বাবারাও শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেছেন। শিক্ষার্থীদের সব দাবি সরকার মেনে নেওয়ার পর আর আন্দোলনের কোনও যৌক্তিকতা থাকতে পারে না বলে সভায় আলোচনা করা হয়। সভায় অংশগ্রহণকারীরা আশা করেন, শিক্ষকরা উদ্যোগ নিলেই উদ্বুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।
সভায় সবার মধ্যে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়, শনিবার থেকেই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা পৃথকভাবে শিক্ষার্থী, শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সাথে পৃথক বৈঠক করবেন এবং তাদের উদ্বুদ্ধ করবেন, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন চালকরা যাতে গাড়ি চালাতে না পারে তার জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংখ্য বাড়ানো হবে, ফুটপাথ দখলমুক্ত করা হবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ছাত্র সমাবেশের আয়োজন করে এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করা হবে, কোনও স্বার্থন্বেষী মহল যাতে এই ছাত্র আন্দোলনে যুক্ত হয়ে স্যাবোটাজ ঘটাতে না পারে সেদিকে নজর রাখা হবে, ছাত্রনেতাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা অব্যহত রাখা হবে, গণমাধ্যমে যথাযথ ভূমিকা পালন, পরিবহন মালিক সমিতি ও চালক সমিতির সঙ্গে পৃথক বৈঠক, কোনও রকম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির উদ্ভব হলে প্রশাসন কঠোর হবে।
আরও পড়ুন- রাজশাহীতে বাস চলছে রাতে, স্কুলের সামনে স্পিডব্রেকারের কাজ শুরু







