ব্যতিক্রমী উদ্যোগে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে মাগুরার পশ্চিম বারিয়ালা স্কুল

মাজহারুল হক লিপু, মাগুরা
১১ আগস্ট ২০১৮, ০৭:৩৯আপডেট : ১১ আগস্ট ২০১৮, ০৭:৪৩

মাগুরার পশ্চিম বারিয়ালা প্রাথমিক বিদ্যালয়

৯৯ ভাগ উপস্থিতি, শতভাগ কৃতকার্য হওয়ার সাফল্য আর শিক্ষার্থীদের মানসিক গঠনের জন্য দারুণসহ উদ্যোগ নিয়ে মাগুরায় ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে একটি স্কুল। নিভৃত পল্লীর স্কুলটি শিক্ষক ও স্থানীয় মানুষের প্রচেষ্টায় হয়ে উঠেছে একটি মডেল স্কুল। ব্যতিক্রমী লাইব্রেরি, নিজ খরচে মিডডে মিল, ‘সততার দোকান’, সাজানো বাগানের পাশাপাশি পাখির অভয়ারণ্য স্কুলটিকে সবার থেকে আলাদা করে তুলেছে। সদর উপজেলার পশ্চিম বারিয়ালা প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এখন জেলার শিক্ষকদের জন্যও এখন অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে।

মাগুরা শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরের পশ্চিম বারিয়ালা স্কুলটি ১৯৯২ সালে জাতীয়করণ হয়। স্কুলটিতে বর্তমানে ২১০ জন শিক্ষার্থী এবং ৫ জন শিক্ষক আছেন। ২০১৬ এবং ২০১৭ সালের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় স্কুলটি থেকে শতভাগ পরীক্ষার্থী পাশ করেছে। স্কুলের গড় হাজিরাও ৯৯ শতাংশ।

দারুল ফলাফল করা স্কুলটিতে ২০১৮ সাল থেকে সরকারি সহায়তা ছাড়াই শুরু হয়েছে ‘মিডডে মিল’ বা দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা। শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটি আর স্থানীয় মানুষের অনুদানেই চলছে এ কার্যক্রম। বিদ্যুতের ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি দূর করতে নিজস্ব অর্থায়নে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছেন শিক্ষকরা। গ্রামের স্কুলটিতে গড়ে তোলা হয়েছে চমৎকার একটি লাইব্রেরি। তবে মজার ব্যাপার হলো, এই লাইব্রেরিতে কোনও স্কুলপাঠ্যবই নেই। বেশিরভাগ বই ছবি, গল্প বা কার্টুনের।

স্কুলে সততার দোকান থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসি কিনে নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা

স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পড়ার অভ্যাসের কোনও বিকল্প নেই। পাঠ্যবই ছাড়া যেসব বই দিয়ে শিশুদের নৈতিক চরিত্র গড়ে তোলা সম্ভব সেসব বই এই লাইব্রেরিতে রাখা হয়েছে। একই সাথে শিক্ষার্থীর নৈতিক চরিত্র গড়ে তুলতে তৈরি করা হয়েছে ‘সততার দোকান’। ওই দোকানে কোন দোকানদার নেই। শিক্ষার্থীরা তাদের প্রয়োজন মতো শিক্ষাসামগ্রী বা খাবার নিয়ে নির্দিষ্ট একটি বাক্সে দাম রেখে আসে। শিক্ষার্থীদের মানসিক উৎকর্ষের জন্য স্কুলেই গড়ে তোলা হয়েছে পাখির অভায়শ্রম। এখানে বাগান সাজানো হয়েছে নানা ধরনের গাছে।

প্রধান শিক্ষক সুজিৎ কুমার দাশ বলেন, ‘আমি মাত্র ৫০০ টাকা বেতনে এখানে চাকরি শুরু করেছিলাম। তখন অনেকেই বলত এ চাকরি ছেড়ে দিতে। কিন্তু একটি স্বপ্ন আমাকে তাড়া করে ফিরতো। তাই কঠিন অবস্থায়ও আমি স্কুল ছেড়ে যাইনি। আজ সবার সহযোগিতায় আমার স্বপ্ন একটু একটু করে সফল হচ্ছে।

মাগুরা সদর উপজেলার রিসোর্স ইনস্ট্রাক্টর অপূর্ব লাল ভট্টাচার্য বলেন, ‘স্কুলটি সত্যিই অনুকরণীয়। আমরা সব শিক্ষককে বলি স্কুলটিকে আদর্শ হিসেবে নিতে। ৫২ জন প্রধান শিক্ষকককে আমরা এ স্কুল পরিদর্শন করিয়েছি।’

জেলা প্রথমিক শিক্ষা অফিসার কুমারেশ চন্দ্র গাছি বলেন, শুধু সরকারি সহায়তাই বড় নয়, শিক্ষক, কর্তৃপক্ষ এবং এলাকাবাসী চাইলে অনেক কিছু করতে পারে। এ স্কুলটি তা প্রমাণ করেছে। আমরা এ ধরনের উদ্যোগের পাশে আছি সবসময়।

/আরএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
সীমান্তে কঠোর বিজিবি, ১০ পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত
সীমান্তে কঠোর বিজিবি, ১০ পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম