ব্যস্ততা বেড়েছে নওগাঁর কামারদের

নওগাঁ প্রতিনিধি
১৫ আগস্ট ২০১৮, ২০:০৫আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০১৮, ২০:১৭

কাজে ব্যস্ত কামার (ছবি- প্রতিনিধি)

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে নওগাঁর কামারদের ব্যস্ততা বেড়েছে। তাদের এখন দম ফেলার সময়ও নেই। জেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কামারদের ছোট ছোট কারখানাগুলো টুং-টাং শব্দে মুখরিত। সবাই চাকু, বটি ও কাটারি তৈরিতে ব্যস্ত। কেউ কয়লার আগুনে লোহা পোড়াচ্ছেন। কেউ হাতুড়ি দিয়ে লাল টকটকে লোহা পেটাচ্ছেন। কেউ ছুরি-কাটারিতে শান দিচ্ছেন তো কেউ রেত দিয়ে ধার করছেন দা-বটি।

কাজের ফাঁকে ফাঁকে কয়েকজন কামার জানান, ঈদ আসলে তাদের ব্যস্ততা বাড়ে। বছরের বাকি সময়টাতে অনেকটা হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হয় তাদের। আধুনিক প্রযুক্তির প্রসার, প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব, কয়লার মূল্য বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে তাদের কদর কমেছে।

মহাদেবপুরের রধুনাথ কর্মকার বলেন, ‘বছরে আমরা ১১ মাস বসে থাকি। হাতে কোনও কাজ থাকে না।  শুধু কোরবানির ঈদ আসলেই হাতে কাজ আসে। এখন আমরা স্প্রিং লোহা (পাকা লোহা) ও কাঁচা লোহা দিয়ে উপকরণ তৈরি করে থাকি। স্প্রিং লোহা দিয়ে তৈরি উপকরণের মান ভাল, তবে দাম বেশি। আর কাঁচা লোহার তৈরি উপকরণগুলোর দাম তুলনামূলকভাবে কম। এ ছাড়া, ব্যবহার করা হয় এঙ্গেল, ব্লাকবার, রড, স্টিং, রেললাইনের লোহা, গাড়ির পাত ইত্যাদি, যা দিয়ে ছুরি, কাটারি, বটি, দা ও কুঠার ইত্যাদি তৈরি করে থাকি।’

এসময় কথা হয় বটি বানাতে আসা আক্কাজ আলী নামে একজনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি নিজে লোহা কিনে নিয়ে আসছি, বটি বানাবো। আমার কাছে মজুরি হিসেবে নেওয়া হচ্ছে ১৩০ টাকা। মজুরিটা একটু বেশি।’

কামারের কারখানায় আসা আলতাফ হোসেন নামের অন্য এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমি বাড়ি থেকে ছুরি, কাটারি, বটি, দা নিয়ে আসছি, ধার দেওয়ার জন্য। সব ক’টি ধার দিতে আমার ৮০ টাকা লাগছে। কামারদের মাধ্যমে ছুরি, কাটারি, বটি, দাতে ধার দিলে ধার ভালো হয়। বাইরে মেশিনে ধার দিলে ধার ভালো হয় না। তাই সবসময় কামারদের কাছ থেকে আমি ধার দিই।’

মহাদেবপুর উপজেলার মুমিনপুর গ্রামের সুজন কর্মকার বলেন, ‘সারাদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে যে কয়টি জিনিস তৈরি করি তা বিক্রয় করে খুব বেশি লাভ থাকে না। তবে এই করেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে আছি। কোরবানির ঈদের আগে যত কাজের ফরমায়েশ পাই, সারা বছর তার অর্ধেকও পেলে, খুবই ভালো হতো।’

বোয়ালিয়া গ্রামের কামার মানিক হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে বাজারে রেডিমেইড চাকু, বটি কিনতে পাওয়া যায়। তাই আগের মতো আর ক্রেতা আমাদের কাছে আসে না। ব্যবসাও আস্তে আস্তে ছোট হয়ে গেছে। বাজারের চাকু, বটি দেখতে চক চক করে, কিন্তু এতে ধার থাকে না, আর বেশি দিন ব্যবহারও করা যায় না।’

তিনি দাবি করেন, ‘আগে নওগাঁ জেলায় প্রায় একহাজার দুইশ’ কামার ছিলেন। আর এখন আছেন প্রায় দুইশ’ কামার। বাধ্য হয়েই অনেক কামার অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। এখনও যারা এই পেশায় আছেন, তারা পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে দিনযাপন করে যাচ্ছেন।’

 

/এমএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম