বঙ্গোপসাগর থেকে সামুদ্রিক মাছ নিয়ে ফেরার সময় অস্ত্র তাক করে একটি ফিশিং ভ্যাসেল (মাছ ধরার জাহাজ) আটক করে ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের বিরুদ্ধে। তবে বন বিভাগের দাবি, অনুমতি না নিয়ে চলায় ওই অর্থ জরিমানা করা হয়েছে জাহাজটিকে।
বৃহস্পতিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সুন্দরবনের পশুর নদীতে জয়মনি এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
এই ব্যাপারে ‘এফ ভি ম্যাটাডোর’ নামের ফিশিং ভ্যাসেলটির মাস্টার মো. এনায়েত হোসেন খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা প্রায় ২০ বছর ধরে সমুদ্র থেকে মাছ ধরে সুন্দরবনের পাশ দিয়ে পশুর নদী হয়ে খুলনায় চলাচল করছি। কিন্তু কখনও বন বিভাগের অনুমতি প্রয়োজন হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সমুদ্রে মাছ ধরার জন্য মেরিন ফিশারিজের অনুমতি এবং মাছ ধরার জাহাজের সার্ভেসহ (সমুদ্রে চলাচলের রুট পারমিশন) অন্যান্য সব কাগজ রয়েছে। হঠাৎ আজ সকালে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জাহাজসহ আমাদের পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছে। পরে জোর করে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।’ ওই জাহাজে সাত হাজার কেজি বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ছিল বলে জানান তিনি।
এদিকে অস্ত্র দেখিয়ে ফিশিং ভ্যাসেলটি আটকের অভিযোগ স্বীকার করে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের স্টেশন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেছেন, ‘প্রাথমিকভাবে তাদের (মাছ ধরার জাহাজে থাকা নাবিকদের) সিগন্যাল দিয়ে গতিরোধের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে অস্ত্র তাক করেছিলাম। পরে বন বিভাগ অনুমোদিত জরিমানা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
এ ব্যাপারে চাঁদপাই রেঞ্জের স্টেশনের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) শাহিন কবির বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বঙ্গোপসাগর থেকে ফিরে আসার সময় বৃহস্পতিবার ভোরে পশুর নদীর জয়মনিতে অভিযান চালিয়ে বনরক্ষীরা একটি ফিশিং ভ্যাসেল আটক করে। ওই বোটে বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ছিল।
তিনি আরও বলেন, ‘সাগরে মাছ ধরার অনুমতি থাকলেও রিজার্ভ ফরেস্ট (সুন্দরবন)-এর ভেতরে চলাচলের জন্য বন বিভাগের অনুমতি ছিল না। এ কারণেই ওই ফিশিং ভ্যাসেল আটক করা হয়েছে। পরে কাগজপত্র (সার্ভে কাগজ, মেরিন ফিশারিজের অনুমতিপত্র) যাচাইয়ের পর ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নিয়ে ১৫ জন নাবিকসহ ভ্যাসেলটি ছেড়ে দেওয়া হয়।’
জরিমানার ব্যাপারে চাঁদপাই রেঞ্জের স্টেশন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘জরিমানা দেড় লাখ টাকা আদায়ের সিদ্ধান্ত থাকলেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদবিরের কারণে মাত্র ৫০ হাজার টাকায় ছেড়ে দিতে হয়েছে।’







