পঞ্চগড়ের বোদা পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক রাজুর বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরাসহ এলাকাবাসী। রবিবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়কের বোদা শহীদ মিনারের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বোদা উপজেলা সদরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েকশ শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় শিশু, নারী ও অভিভাবকরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে ওই স্কুলছাত্রীর মা, মকলেছার রহমান মেম্বার, মোস্তাফিজুর রহমান, অভিভাবক আবু হোসেন, শাহাদত হোসেন সোহাগ, মাসুম বিল্লাহসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। এ বিষয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানা ও আদালতে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে অভিভাবকরা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ আগস্ট সকালে বোদা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোকেশনাল শাখার ফুড প্রসেসিং বিভাগের নবম শ্রেণির ওই ছাত্রী বোদা থানার সহকারী শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক রাজুর প্রাইভেট সেন্টারে পড়তে যায়। এ সময় কেউ না থাকার সুযোগে ওই শিক্ষক তার যৌন হয়রানির চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে সে ওই শিক্ষকের হাত থেকে কোনও মতে নিজেকে রক্ষা করে বাড়ি ফিরে পরিবারের লোকজনকে বিষয়টি জানায়। ঘটনার দিনই ওই স্কুলছাত্রী বোদা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল আলম সাবুলের কাছে গিয়ে বিষয়টি জানায়। পাশাপাশি একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করে। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জরুরি সভা করে ওই শিক্ষককে ছয় মাসের জন্য বরখাস্ত করেন। সেসময় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
ওই স্কুলছাত্রীর মা বলেন, ‘আমরা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অভিভাবক মনে করে ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাই। কিন্তু তাদের হাতেই এখন আমাদের সন্তানরা নিরাপদ নয়। আমার মেয়েকে যে শিক্ষক যৌন হয়রানির চেষ্টা করেছে আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ওই শিক্ষকের বিচার দাবি করছি বলে বিভিন্নভাবে আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই মানববন্ধন না করার জন্য আমার বাড়িতে গিয়ে ওই শিক্ষকের লোকজন হুমকি দিয়ে এসেছে। এমনকি বোদা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল আলম সাবুল তার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে গেলে টিসি দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।’
বোদা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল আলম সাবুল জানান, এ ঘটনায় আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত কমিটিকে ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলেই তার আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা গেলে টিসি দিতে চাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘মানুষ গুজব তুলেছে। এমনটা আমি বলতে পারি? এটা পুরোটাই মিথ্যা।’








