খুলনায় নিখোঁজের ১৩ দিন পর ডোবা থেকে স্কুলশিক্ষক কাজী তাসছিন হোসেন তয়নের (৩২) লাশ উদ্ধারের পর এই হত্যাকাণ্ডের কারণ জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। গ্রেফতার দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ ধারণা করছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তনয়কে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শরীফ আবুল কালাম ও তার ছেলে কনস্টেবল শরীফ নোমানকেও সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় এরইমধ্যে শরীফ আবুল কালামের স্ত্রী ও মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে র্যাব। শরীফের শ্যালক মুরাদ কাজীকেও খোঁজা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডটি বয়রার এএসআই শরীফ আবুল কালামের বাড়িতেই ঘটেছে বলে সন্দেহ করছে র্যাব।
খালিশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোশারেফ হোসেন বলেন, ‘সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ২৮ অক্টোবর তয়নকে অপহরণ করা হয়। তয়নকে আর খুঁজে না পাওয়ায় নিহতের মামা কামরুল আহসান খালিশপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর তনয়ের বাবা কাজী ফেরদৌস হোসেন ওরফে তোতা অপহরণ ও গুমের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় মুরাদ কাজীসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়। এরপর ১০ সেপ্টেম্বর দুজনকে মুজগুন্নী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ঘাতকরা তয়নকে ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে শ্বাসরোধে হত্যা করে এবং লাশ বয়রায় আনসার উদ্দীন সড়কের মাথায় একটি ডোবায় ফেলে দেয়। চারজন হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আসামিদের দেখিয়ে দেওয়া ওই ডোবা থেকে নিহতের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।’
তিনি আরও জানান, ৮ সেপ্টেম্বরের এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৮ আগস্ট রাত পৌনে ৮টার দিকে মুজগুন্নী ২৪ নম্বর রোডের একটি চায়ের দোকানে কাজী মুরাদের সঙ্গে চা পান করছিলেন তয়ন। মুরাদ ওই দোকানে তার চায়ের দাম পরিশোধ করে।
লাশ উদ্ধারের পর অপহরণ মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়েছে বলেও ওসি জানান।
এদিকে গ্রেফতার মো. সাইফুল গাজী (২০) মঙ্গলবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মহানগর হাকিম মো. আতিকুস সামাদ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় সাইফুলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। অপরজন কাজী মো. মাসুমকে (৪২) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে পুলিশ। এই দু’জনই মুরাদের বাসায় ভাড়া থাকতেন।
এদিকে তনয় হত্যার ঘটনায় র্যাবের সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন পিবিআইয়ে কর্মরত পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শরীফ আবুল কালাম ও তার ছেলে কনস্টেবল শরীফ নোমান। শরীফ আবুল কালামের স্ত্রী ও কন্যাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে র্যাব।
র্যাব-৬-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও স্পেশাল কোম্পানি কমান্ডার এনায়েত হোসেন মান্নান জানান, ‘কালামের স্ত্রী ও কন্যাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের কাছ থেকে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। কালামের শ্যালক মুরাদ কাজী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। ঘটনার সময় বাড়িতে উপস্থিতির তথ্য থাকায় এএসআই শরীফ আবুল কালাম ও তার ছেলে কনস্টেবল শরীফ নোমানকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডটি বয়রার আনসার উদ্দিন সড়কে পিবিআইয়ে কর্মরত এএসআই শরীফ আবুল কালাম ও তার পুত্র কনস্টেবল শরীফ নোমানের বাড়িতেই ঘটেছে বলে সন্দেহ করছি আমরা। এ কারণে লাশ উদ্ধারের পরপরই র্যাব-৬-এর সদস্যরা কালামের স্ত্রী ও কন্যাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।’
আরও পড়ুন- ১৩ দিন ধরে নিখোঁজ স্কুলশিক্ষকের লাশ উদ্ধার







