নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় বুধবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে আহাদ বাবু নামে ৫ বছরের এক শিশুকে অপহরণের পর মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর সেতুর উপর থেকে ধলেশ্বরী নদীতে ফেলে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে পুলিশ অপহরণের অভিযোগে নাজমুল হুদা লিয়ন (২৩) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে।
নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো শিশুটির সন্ধান মেলেনি। মৃতদেহ উদ্ধারের জন্য ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল কাজ করছে বলে বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মঞ্জুর কাদের।
ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মঞ্জুর কাদের জানান, বুধবার রাতে ফতুল্লার ভোলাই এলাকা থেকে শিশু আহাদকে অপহরণ করে নিয়ে যায় প্রতিবেশী নাজমুল হুদা লিয়ন। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আবদুল মজিদ ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, রাতে বাবায় টিভি দেখছিল লিয়ন। এ সময় আহাদের মা একটি কাজে বাসার বাইরে যাওয়ার সময় তাকে (আহাদকে) দেখে রাখার জন্য লিয়নকে বলে যান। এই সুযোগে লিয়ন শিশুটিকে নিয়ে চলে যায়। পরে রাতের কোনও এক সময় শিশুটিকে মুন্সীগঞ্জের মোক্তারপুর সেতু থেকে ধলেশ্বরী নদীতে ফেলে দেয়। বৃহস্পতিবার সকালে মুন্সীগঞ্জ সদর থানা পুলিশ নাজমুল হুদা লিয়নকে গ্রেফতার করে।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসাইন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, শিশু আহাদ বাবুকে নদীতে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করে লিয়ন জানিয়েছে, টাকার জন্যই সে শিশুটিকে অপহরণ করেছিল। লিয়নকে ফতুল্লা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শিশুটিকে খুঁজে পেতে মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল নদীতে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ধারণা করা হচ্ছে মুক্তিপণের জন্যই শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশের তৎপরতার কারণে অবস্থা বে-গতিক দেখে শিশুটিকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে। আসামি লিয়নকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই অপহরণের প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে। শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।








