দুই দিন বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি শুরু হয়েছে। বুধবার (৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে আমদানি-রফতানি শুরু হয়।
এদিকে, বিরাজমান সমস্যা নিরসনে হিলি সীমান্তের চেকপোস্ট গেটের শুণ্যরেখায় দুই দেশের আমদানি-রফতানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ভারতের পক্ষে ভারতের হিলি এক্সপোটার্স অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্ট আ্যসোসিয়েশনের সভাপতি ভবতোষ মজুমদারের নেতৃত্বে সংগঠনের সহ-সভাপতি বিকাশ রঞ্জন মণ্ডল, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক গনেশ সাহা, বিপ্লব চাকীসহ ৮-১০ জন ভারতীয় ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে বাংলাহিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আ্যসোসিয়েশনের সভাপতি কামাল হোসেন রাজের নেতৃত্বে আমদানিকারক শহিদ উদ্দিন, মামুনুর রশীদ লেবু, ইদ্রিস আলি মিঠু, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হানিফ লস্করসহ ৮-১০জন ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বন্দরের বিরাজমান সমস্যাসহ আমদানি-রফতানি শুরু করাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে ভারতের হিলি এক্সপোটার্স অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্ট আ্যসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি বিকাশ রঞ্জন মণ্ডল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘একটা ভুল সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছিল। একটা ভুল চিঠি আমাদের কাছে এসেছিল। যেকারণে এই জটিলতা তৈরি হয়। আজকে তারা সবাই এখানে এসেছিল। তাদের সবার সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। আগামী দিনে এ রকম ভুল হবে না তাদের এবং প্রতিমাসে আমরা একবার করে একত্রে মিটিং করবো। সেখানে বসে আমাদের এবং তাদের যে সমস্ত ভুল বুঝাবুঝি রয়েছে তা আমরা মিটিয়ে নেবো। সেই সঙ্গে বন্দর দিয়ে আজ থেকে স্বাভাবিক আমদানি-রফতানি চালু হয়েছে। বন্দর দিয়ে পাথরসহ সব পণ্য রফতানি করা হবে।’
বৈঠক শেষে বাংলাহিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আ্যসোসিয়েশনের সভাপতি কামাল হোসেন রাজ বলেন, ‘গত দুই দিন বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ ছিল। এটা দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝির কারণেই ঘটেছে। সেটা দূর হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি শুরু হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, পাথর সরবরাহ নিয়ে ভারত অভ্যন্তরে দেশটির ব্যবসায়ীদের মধ্যে কোন্দল শুরু হলে গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে বন্দর দিয়ে পাথর আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে, পাথর সরবরাহ না করায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন জানিয়ে গত শনিবার বন্দর দিয়ে পাথরসহ সব পণ্য রফতানির অনুরোধ জানিয়ে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের চিঠি দেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। কিন্তু রবিবারও বন্দর দিয়ে পাথর রফতানি না করায় গত সোমবার বন্দর দিয়ে সব ধরনের আমদানি-রফতানি বন্ধ করে দেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। পরে ওই দিন দুপুরেই পণ্য রফতানির অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিলেও ভারতীয় ব্যবসায়ীরা আর পণ্য রফতানি করেনি। এ ছাড়া, গতকাল মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন উপলক্ষে ভারতে সরকারি ছুটি থাকায় বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ ছিল।







