ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও মাওলানা সা’দ এর অনুসারীদের মধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যায় সংঘর্ষের পর আজ শনিবার সকাল থেকে শহরের উত্তেজনা বিরাজ করছে। কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবিতে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত প্রায় ৬ ঘণ্টা শহরের প্রধান সড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে রাখে। দুপুরে আন্দোলনরতরা শহরের প্রধান সড়কে জোহরের নামাজ আদায় করেন। এ ঘটনায় শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
রাস্তায় জোহরের নামাজ আদায় শেষে জামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষা সচিব মাওলানা আব্দুর রহমান কাসেমী জানান, ‘সা’দপন্থীদের হামলায় গতকাল আমাদের বেশ কয়েকজন অনুসারী আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে নজরুল নামে একজনের অবস্থা সংকটাপন্ন। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার ঘটনার জন্যে আমরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রেজাউল কবীরের ভূমিকাকে দায়ী করে তার অপসারণসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছি।’ তিনি জানান, তাদের অন্য চারটি দাবি হচ্ছে সা’দপন্থী মাওলানা আনিসুর রহমানের গ্রেফতার, সা’দমুক্ত মারকাজ মসজিদ, হামলাকারী অপরাধীদের বিচার এবং আহতদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এই দাবিগুলো না মানা হলে কঠোর আন্দোলনর হুমকি দেন কওমীপন্থীরা।
মাওলানা আব্দুর রহমান কাসেমী আরও জানান, ‘দাবির বিষয় নিয়ে জামিয়া ইউনুছিয়ায় বৈঠক হয়েছে। এই বৈঠকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমামুন সরকার, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শামসুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে আজ বিকেল ৪টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। বৈঠকের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানা যাবে।’
এদিকে শহরের প্রধান সড়ক অবরোধের কারণে সকাল থেকে রিকশাসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে শহরে আসা সাধারণ মানুষ বিকল্প পথে পাড়া মহল্লার ভেতর দিয়ে যাতায়ত করতে দেখা যায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. সেলিম উদ্দিন জানান, ‘শহরের পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে বিপুল সংখ্যাক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, শুক্রবার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বিরাসার এলাকায় মারকাজ মসজিদের অবস্থান নিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী এবং মাওলানা সা’দপন্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে কওমি মাদ্রাসার অন্তত ১১ জন আহত হন। এ ঘটনার পর উত্তেজিত মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা লাঠিসোটা নিয়ে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়াকে অবস্থান নেন। এসময় বিপুল সংখ্যক পুলিশ এবং র্যাব সদস্য ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।








