গত সাত দিনে শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গরু চোরের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময়ে শ্রীপুর পৌরসভার লোহাগাছ, ভাংনাহাটি ও টেংরা এলাকা থেকে ১৮টি গরু এবং একটি মহিষ চুরির ঘটনা ঘটেছে।
এসবের মধ্যে ভাংনাহাটি এলাকার নূরে আলম মোল্লার পাঁচটি, আনিসুর রহমানের ছয়টি, জাহিদ হাসানের একটি এবং তেলিহাটি ইউনিয়নের টেংরা গ্রামের শাহাবুদ্দিনের একটি মহিষ চুরি হয়েছে। পরপর অনেকগুলো গবাদিপশু চুরির ঘটনায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ওইসব এলাকার কৃষকরা।
মো. শরীফ হোসেনের বাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার লোহাগাছ এলাকায়। জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি অস্ট্রেলিয়ান ও শংকর প্রজাতিসহ সাতটি গরু পালন করছিলেন। বুধবার (১৪ নভেম্বর) দিবাগত রাতের কোনও এক সময়ে তার গরুগুলো চুরি হয়ে যায়।
শরীফ হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি গরুকে খাওয়ানোর জন্য গোয়ালঘরে যান। সেখানে গিয়ে গোয়ালঘর শূন্য দেখতে পান। পরে বাড়ির আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে গর্ভবতী একটি গাভিকে রাস্তার মাঝখানে পড়ে থাকতে দেখেন। ওই গাভিটিও কিছুক্ষণ পর মারা যায়।
শরীফ হোসেনের বাবা প্রাইমারি শিক্ষক মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, প্রতিটি গরুর মূল্য এক লাখ টাকার ওপরে। গরুগুলো চুরি হয়ে যাওয়ায় শরীফ এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বেশ কয়েকবার অজ্ঞান হয়ে গেছেন বলেও জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার রাতে ভাংনাহাটি গ্রামের কৃষক আনিসুর রহমানের বাড়িতে ছয়টি গরু চুরির ঘটনায় বুধবার শ্রীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। কৃষকেরা জানিয়েছেন, হালের বলদ, দুধের গাভি এবং মহিষ চুরি হওয়ার কারণে তারা অর্থনৈতিকভাবে চরম সংকটের মুখে পড়েছেন। চুরি রোধ করা না হলে আসন্ন কৃষি মৌসুমে কৃষি উৎপাদন বিঘ্নিত হবে।
গরু চুরি প্রসঙ্গে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ছয়টি গরু চুরির অভিযোগ তারা পেয়েছেন। বাকিগুলোর ব্যাপারে কোনও অভিযোগ পাননি। তারা কার্যক্রম শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে চুরির সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছেন।








