বরিশালের ৬টি আসনের বিএনপি পোলিং এজেন্ট কারাগার ও আত্মগোপনে

বরিশাল প্রতিনিধি
৩০ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৪:০১আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৪:১৩

  বরিশাল

সংসদ নির্বাচনে বরিশাল জেলার ৬টি আসনের ৮০৫টি কেন্দ্রের ৪ হাজার ৪৭টি কক্ষে ভোটগ্রহণ করা হবে। সে হিসেবে প্রতি কক্ষে একজন করে পোলিং এজেন্ট প্রয়োজন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টিসহ অন্যান্য দল কিংবা জোটের প্রার্থীরা পোলিং এজেন্ট চূড়ান্ত করলেও জেলার ৬টি আসনের কোথাও পোলিং এজেন্ট পাচ্ছেন না বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীরা।

যদিও ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীদের দাবি তারা তিন স্তরে পোলিং এজেন্ট তালিকা চূড়ান্ত করেছেন। এদের মধ্যে কেউ আত্মগোপনে, কেউ কারাগারে, কেউ আহত হয়ে চিকিৎসাধীন হাসপাতালে। পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে সব কেন্দ্রে কিংবা কক্ষে পোলিং এজেন্ট দেওয়া সম্ভব হবে না বলে আশংকা প্রার্থীদের।

নির্বাচন কমিশনের সবশেষ গেজেট অনুযায়ী বরিশাল জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ করা হবে ৮০৫টি কেন্দ্রে। এর মধ্যে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে ১১৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে ২৬৩ মহিলা এবং ৩১৫টি পুরুষ ভোটকক্ষে। ওই আসনে মোট ৫৭৮টি ভোট কক্ষে ভোটগ্রহণের আয়োজন করা হলেও পোলিং এজেন্ট পাচ্ছে না বিএনপি প্রার্থী জহিরউদ্দিন স্বপন। বিশেষ করে ওই আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র নিজ উপজেলা আগৈলঝাড়ায় পোলিং এজেন্ট থাকতে সাহস পাচ্ছেন না বিএনপি’র কোন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সব কেন্দ্রের সবগুলো কক্ষে পোলিং এজেন্ট দেওয়া সম্ভব হবে না বলে আশংকা ওই আসনের বিএনপি প্রার্থী স্বপনের।

বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের ১৩৬টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে ৬৮৫টি কক্ষে। এর মধ্যে মহিলা ভোট কক্ষ ৩১৫টি এবং পুরুষ ভোট কক্ষ ৩৭০টি। ওই আসনের মোট ৬৮৫টি কক্ষে ভোটগ্রহণের জন্য বিএনপি’র ৬৮৫জন পোলিং এজেন্ট প্রয়োজন হলেও পোলিং এজেন্ট হতে আগ্রহী কাউকে পাচ্ছে না বিএনপি।

উজিরপুর উপজেলা বিএনপি’র কৃষি বিষয়ক সম্পাদক শফিউল আলম সফরুল বলেন, গত কয়েক দিনে দুই উপজেলা একাধিক গায়েবী মামলায় পুলিশি গ্রেফতার এবং আওয়ামী লীগের হামলার হাত থেকে বাঁচতে নেতাকর্মীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিএনপি নেতাকর্মী খুঁজছে।  ক্ষমতাসীনদের হামলা এবং পুলিশের গ্রেফতারের ভয়ের কারণে কোন কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট দেওয়ার সাহস পাচ্ছেন না তারা। তবে পরিস্থিতি অকুকূলে থাকলে সব কেন্দ্রের জন্য একাধিক পোলিং এজেন্টের তালিকা প্রস্তত রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।

একইভাবে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে ১২৩টি কেন্দ্রের ২৮০টি মহিলা ও ৩০৭টি পুরুষ কক্ষ সহ মোট ৫৮৭টি কক্ষে, বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে ১৪৮টি কেন্দ্রের ৩৪২টি মহিলা ও ৪০২টি পুরুষ কক্ষ সহ মোট ৭৪৪টি কক্ষে, বরিশাল-৫ (সদর ও সিটি করপোরেশন) আসনে ১৭৪ কেন্দ্রের ৪১০ মহিলা ও ৪৮৫টি পুরুষ কক্ষ সহ মোট ৮৯৫ কক্ষে এবং বরিশাল-৬ আসনের ১০৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে ২৫৩টি পুরুষ ও ৩০৫টি মহিলা কক্ষ সহ মোট ৫৫৮টি ভোট কক্ষে।

বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী নুরুর রহমান জাহাঙ্গীর ৩/৪ দিন প্রচারণা চালিয়েছেন। পরবর্তীতে হামলার শিকার হয়ে পা ভেঙে কিছুদিন হাসপাতালে ছিলেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ প্রার্থী পংকজ নাথের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ রয়েছে। ওই আসনে ১৪৮টি কেন্দ্রের ৭৪৪টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সেখানকার আওয়ামী লীগ প্রার্থী ধানের শীষের প্রার্থীর পোলিং এজেন্টসহ নির্বাচনে সবধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাহাঙ্গীর। তিনি জানিয়েছেন, সেখানকার বিএনপি নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার করা হয়েছে। তার পোলিং এজেন্ট দেওয়ার মত কর্মী নেই বললেই চলে।

বরিশাল-(সদর) ৫ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন। কারণ সিটি কর্পোরেশন ও বিভাগীয় শহর হওয়ায় এ আসনটিকে ভিআইপি আসন হিসেবে দেখা হয়। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৯৭ হাজার ২৬৭। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৩৯৮ এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ৯৬ হাজার ৮৬৯। ১৭৪টি ভোট কেন্দ্রের ৮৯৫টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, ‘প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার শুরু হয়েছে। আমার মনে হয় নির্বাচনের দিন পর্যন্ত এ গ্রেফতার চলতে থাকবে। ইতোমধ্যে দুই শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছে। আমি প্রচারণা চালানোর মত কোনও কর্মী পাইনি। কর্মীদের ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় এজেন্ট পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। গ্রেফতার আতংকে কেউ এজেন্ট হওয়ার সাহস পাচ্ছে না। এখন আমাদের ভরসা সাধারণ ভোটাররা।

বরিশাল-৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী আবুল হোসেন খান বলেন, পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে হানা দিচ্ছে। পুলিশের গ্রেফতার এড়াতে নেতাকর্মীরা বাগানে মশার কামড় খাচ্ছে। মনে হচ্ছে পুলিশ নির্বাচন করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনে থাকার কোন মানে হয় না। এই অবস্থায় বিএনপি যে কিসের জন্য এখনও নির্বাচনে আছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা পালিয়েও বাঁচতে পারছে না। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সব কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট দেওয়া সম্ভব হবে না।

/এমএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু 
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু 
বিক্রির জন্য নিলামে উঠছে এই আধুনিক দুর্গটি
বিক্রির জন্য নিলামে উঠছে এই আধুনিক দুর্গটি
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম