দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল প্রচার-প্রচারণায় বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন বীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সাবেক এমপি আমিনুল ইসলাম। গত সোমবার নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলামের কাছে এই অভিযোগ করেছেন তিনি। এ অভিযোগ লিখিতভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে দেওয়া হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের এই প্রার্থী।
সোমবার বিকালে নির্বাচন কমিশনারের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন আমিনুল ইসলাম। এরপর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘নির্বাচন যাতে নিরপেক্ষ না হয় সেজন্য এবং নিজের পছন্দের প্রার্থীকে জেতাতে দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল আমার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের দুইজন বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। একজন আকতারুল ইসলাম চৌধুরী বাবুল (আনারস মার্কা) এবং অন্যজন হলেন দ্বিনেশ চন্দ্র মহন্ত (দোয়াত-কলম মার্কা)। আমি যাতে বিজয়ী হতে না পারি সেটাই তার উদ্দেশ্য। ভোটব্যাংক বিভক্ত করে তিনি আনারস মার্কার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে চান। এজন্য বিজয় মহন্তকে ডামি প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামিয়েছেন। এতে করে সংখ্যালঘুরা প্রভাবিত হচ্ছেন। এছাড়াও তিনি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে প্রভাবিত করছেন।’
আমিনুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, ‘নির্বাচনি প্রচারণার শিডিউল অনুযায়ী আমি যেখানে যেখানে জনসভা ডাকি সেসব স্থানে সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির নামে আলাদা জনসভা করেন। এবং ওই জনসভায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের যেতে বাধ্য করেন, যাতে আমার জনসভায় কেউ আসতে না পারেন। এটা করে তার মনোনীত প্রার্থীকে জেতাতে পারবেন বলে মনে করছেন তিনি। সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপালের এমন কর্মকাণ্ডের কথা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাড. মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারকে জানানো হয়েছে। তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দায়ের করতে বলেছেন। আমি নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে মৌখিকভাবে এই বিষয়ে অভিযোগ করেছি। তিনি আমাকে লিখিতভাবে অভিযোগ দিতে বলেছেন। আমি লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করবো।’
এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল বলেন, ‘নির্বাচনি কাজে বাধা কিংবা পাল্টা জনসংযোগ করেছি এমনটি অভিযোগকারী দেখাতে পারবেন না। আমিও জানি না উনার জনসভার পাল্টা জনসভা কোথায় করেছি। এই অভিযোগটি সঠিক নয়। এ ধরনের কোনও বিষয় নেই। এখন পর্যন্ত কারও পক্ষে কোথাও ভোট চাইনি, কিংবা কাউকে বলিও নাই। নির্বাচনি কোনও বৈঠকও করিনি।’
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়। জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুকুজ্জামান চৌধুরী মাইকেল বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনও অভিযোগ পাইনি। আর এটি মৌখিকভাবে নয়, এ ধরনের অভিযোগ থাকলে লিখিতভাবে জেলা আওয়ামী লীগকে জানাতে হবে। তবেই জেলা আওয়ামী লীগ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবে।’







