ফেনীর সোনাগাজীতে আবু সালেহ মিম (২৬ ) নামের এক তরুণের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।বুধবার রাত ১০টার দিকে সোনাগাজী পৌর এলাকার চরগণেশ এলাকার এ ঘটনা ঘটেছে।
আবু সালেহ মিম ওই এলাকার আবুল কালামের ছেলে। ফেনী সদর হাসপাতাল পুলিশ বক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক জসিম উদ্দিন জানান, ‘রাতের দিকে কে বা কারা মোবাইলে ফোন করে মিমকে বাড়ির বাইরে একটি নির্জন স্থানে যেতে বলে। তিনি সেখানে গেলে ওঁৎ পেতে থাকা সাত থেকে আটজন মুখোশধারী তাকে জাপটে ধরে গায়ে ও মুখে কেরোসিন ঢেলে দেয়। পরে তারা দিয়াশলাই জ্বালিয়ে মিমের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।’
ফেনী সদর হাসপাতালের চিকিৎসক এ বি এম ওবাইদুল্লাহ জানান, ‘ওই তরুণের মুখে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ায় শ্বাসনালিতে ইনফেকশন দেখা দিয়েছে। তাই প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’
সোনাগাজী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল উদ্দিনের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মিমের ভগ্নিপতি মো. সবুজ জানান, ‘কারা ঘটনা ঘটিয়েছে তা তার জানা নেই। ওরা মিমের মোবাইল ফোনও নিয়ে গেছে। তাই কোন নম্বর থেকে ফোন করা হয়েছিল তা বলা যাচ্ছে না।’
উল্লেখ্য, গত শনিবার (৬ এপ্রিল) সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে পরীক্ষার হল থেকে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। সে বুধবার রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। একই মাদ্রাসার অধ্যক্ষের লোকজন তার গায়ে আগুন দেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। যৌন হয়রানির অভিযোগে ও হত্যা মামলায় মাদ্রাসা অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা এখন রিমান্ডে আছেন।







