চলতি অর্থবছর শেষ হতে একদিন বাকি। এ সময়ের আগে গত কয়েকদিন ধরে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালসহ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে রোগীদের জন্য কেনা হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা মূল্যের ওষুধ-গজ ব্যান্ডেজসহ বিভিন্ন ধরনের এম এস আর মালামাল। চুক্তি করা ও নির্বাচিত ঠিকাদারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে গত ক’দিন থেকে এসব মালামাল নেওয়া হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসের স্টোরে জায়গা না হওয়ায় সোমবার (২৪ জুন) রাতে অফিস প্রাঙ্গণ ও করিডোরে এসব মালামাল স্তূপ করে রাখতে দেখা গেছে। একই অবস্থা সদর হাসপাতালেও। অর্থবছরের শেষ মুহূর্তে এ ধরনের তড়িঘড়ি ক্রয় প্রক্রিয়ায় নিম্নমানের ওষুধপত্রসহ মালামাল ক্রয়ে বা সরবরাহে সরকারি অর্থের অপচয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
জানা যায়, এম এস আর টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা ও বারবার আপত্তির কারণে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রশাসনিক ও ব্যয় মঞ্জুরির অনুমোদন পেতে দেরি হলেও সরকারি বরাদ্দ সরকারি কোষাগারে যেন ফেরত না যায় সেজন্য শেষ মুহূর্তে জেলা সদরের ২৫০ শয্যার হাসপাতালসহ সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে গত ক’দিন ধরে এ ধরনের তৎপরতা দেখা যায়।
সদর হাসপাতালসহ জেলার সবক’টি উপজেলা হাসপাতাল ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আগামী এক বছর রোগীদের সেবা প্রদানে সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে তড়িঘড়ি আগাম সরবরাহ নেওয়া হচ্ছে ওষুধ, গজ ব্যান্ডেজসহ এম এস আর মালামাল। এসব মালামাল সরবরাহের বিপরীতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রশাসনিক অনুমোদন হলেও ব্যয় মঞ্জুরির অনুমোদন হয়নি। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে এসব মালামাল হাতে না পেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মূল্য পরিশোধে ঝামেলাসহ বরাদ্দ অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জানা যায়, সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের এম এস আর মালামালের টেন্ডার গত মার্চে হয়। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের আপত্তির কারণে ব্যয় মঞ্জুরির অনুমোদন না হলেও আংশিক প্রশাসনিক অনুমোদন ক’দিন আগে হয়েছে। রোগীদের ওষুধ সরবরাহে ছয়টি গ্রুপের একটি বাদে গজ ব্যান্ডেজসহ অন্যান্য মালামাল সরবরাহের অনুমোদন হওয়ায় সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মালামাল সরবরাহ নিতে বর্তমানে ব্যস্ত রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতার পাশাপাশি চুক্তি করা সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দরের সঙ্গে বর্তমান বাজার দরের গড়মিল থাকায় স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে বারবার আপত্তি দেওয়ায় এ ধরনের বিলম্ব হয়েছে। চলতি অর্থবছরের শেষ মুহূর্তে এত অল্প সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের তদারকি বা সার্ভে কমিটি কিভাবে চালান বা ভাউচার দেখে মালামাল বুঝে নেবে কিংবা বিল পরিশোধ করা হবে তা নিয়েও ধূম্রজাল রয়েছে।
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রমেশ চন্দ্র সাহা বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ার বিপরীতে অধিদফতরের প্রশাসনিক অনুমোদন গত ১৬ জুন আংশিক হয়েছে। অধিদফতর থেকে আপত্তি দেওয়ায় ওষুধ ক্রয়ের অনুমোদন এখনও হয়নি। চলতি জুন মাসের মধ্যে প্রশাসনিক অনুমোদন পুরোপুরি হাতে পেলে সব প্রক্রিয়া তড়িঘড়ি শেষ করা যাবে।
সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম সোমবার রাতে বলেন, অধিদফতর থেকে দেরিতে অনুমোদন হওয়ার কারণে এম এস আর মালামালসহ ওষুধপত্র ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে গত ক’দিন থেকে তড়িঘড়ি সরবরাহ নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের বিলম্ব যেন আগামীতে না হয় সেজন্য এরই মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে (ডিজি) অনুরোধও করা হয়েছে। দেরিতে হলেও সার্ভে কমিটি সরকারি এম এস আর মালামাল যথাযথভাবে বুঝে নিচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (অর্থ) ডা. খাজা আব্দুল গফুর বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা বা আপত্তি থাকলেই কেবলমাত্র অনুমোদনে দেরি হয়। টেন্ডার আহ্বানকারীদের উচিত অধিদফতরে নির্ভুল ও সঠিক কাগজপত্র পাঠানো।








