নিজ যোগ্যতায় চাকরি পাওয়াদের বাড়িতে গিয়ে মিষ্টিমুখ করালেন পুলিশ সুপার

দিনাজপুর প্রতিনিধি
১৩ জুলাই ২০১৯, ১৮:৫৭আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৯, ২০:০২

পুলিশে চাকরি পাওয়ায় সুস্মিতা দেব শর্মার বাড়িতে গিয়ে তাকে মিষ্টিমুখ করান দিনাজপুরের পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম। দিনাজপুরে নিজ যোগ্যতায় কোনও প্রকার সুপারিশ ছাড়াই পুলিশে নিয়োগপ্রাপ্তদের বাড়িতে গিয়ে মিষ্টি বিতরণ করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা। পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে এমন শুভেচ্ছা পেয়ে কেঁদে ফেলেছেন নিয়োগপ্রাপ্তদের অভিভাবকরা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে দিনাজপুরের সদর উপজেলার ৭নং উথরাইল ইউনিয়নের মালিগ্রাম এলাকায় সদ্য পুলিশে নিয়োগপ্রাপ্ত ফিরোজ হাসানের বাড়িতে যান দিনাজপুরের পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম। এ সময় তিনি ফিরোজ হাসানের মায়ের হাতে মিষ্টি তুলে দিয়ে তাদেরকে শুভেচ্ছা জানান। পুলিশের এমন শুভেচ্ছায় কেঁদে ফেলেন ফিরোজ হাসানের মা মোছাম্মৎ ফেরদৌস। শুধু তিনিই না, এ সময় আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন ফিরোজ হাসানের দাদা আব্দুর রহমানও।

ফিরোজ হাসানের মা  আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার স্বামী মারা গেছে ২০১১ সালে। এরপরে অনেক কষ্ট করে ছেলেটাকে পড়ালেখা করাচ্ছি। এবারে পুলিশে আবেদন করে সে উত্তীর্ণ হয়েছে। এই নিয়োগে কোনও প্রকার টাকা দিতে হয়নি। যদি টাকা দিতে হতো তাহলে আমার ছেলের চাকরি হতো না। আর টাকা ছাড়া নিয়োগ পাওয়ার পর শুভেচ্ছা জানাতে পুলিশের কর্মকর্তারা আমার মতো গরিবের বাড়িতে এসেছেন এটা যে কত সৌভাগ্যের তা বলে বোঝানোর মতো নয়। ছেলের যোগ্যতার জন্য আজ আমি এত সম্মানিত হলাম, সবাই দেখলো আমার বাড়িতে বড় কর্মকর্তারা।’

পুলিশে নিজ যোগ্যতায় চাকরি পাওয়ায় ফিরোজ হাসানের বাড়িতে গিয়ে তাকে মিষ্টিমুখ করান দিনাজপুরের এসপি সৈয়দ আবু সায়েমসহ অন্য পুলিশ কর্মকর্তারা।

ফিরোজ হাসানের দাদা আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমার এখন বয়স হয়েছে। এই বয়সে আমি এমন নজির দেখিনি যে কর্মকর্তারা বিনা টাকায় চাকরি দেওয়ার পর আবার বাড়িতে মিষ্টি নিয়ে আসে। সবচেয়ে বড় কথা এই জামানায় টাকা ছাড়া চাকরি হয় না বললেই চলে। আমাদের সেই ধারণা পুলিশ পাল্টে দিয়েছে। যদি সব ক্ষেত্রেই টাকা ছাড়া এমন চাকরি হতো তাহলে আমাদের দেশটা আরও উন্নত হতো।’

চাকরি পাওয়া ফিরোজ হাসান বলেন, ‘আমরা খুব গরিব। টাকা দেওয়ার সামর্থ্য নাই, পুলিশে চাকরি পাওয়া স্বপ্নের মতো ছিল। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এখন আমি সংসারে কিছুটা হলেও স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে পারবো।’

পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম বলেন, ‘যারা উত্তীর্ণ হয়েছে তারা নিজ যোগ্যতায় এতদূর এসেছে। কোনও সুপারিশ ছাড়া, অর্থ ছাড়া এমন যোগ্যদের পাশে থাকতে চায় পুলিশ। তাই তাদেরকে শুভেচ্ছা জানানো, এতটুকু কাজ তো পুলিশ করতেই পারে। যোগ্যদের পাশে পুলিশ সবসময় থাকবে। আগামীতে পুলিশে যত নিয়োগ হবে তাতে করে কোনও অর্থ কিংবা তদবির করতে হবে না বলে কথা দেন তিনি।’

এ সময় দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার, কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বজলুর রশিদ, বিরল থানার পরিদর্শক (ওসি) এটিএম গোলাম রসুলসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার বলেন, ‘যাদের বাড়িতে মিষ্টি নিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি এটা তাদের প্রাপ্য। কারণ, তারা নিজ যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছে। প্রতিটি থানার ওসি ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের বলে দেওয়া হয়েছে যেন তারা সদ্য নিয়োগপ্রাপ্তদের বাড়িতে গিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। এটা এক ধরনের পুরস্কার তাদের জন্য। আর আমরা যেন এটা বলতে পারি যে পুলিশে চাকরি নিতে কোনও কথিত দালাল বা সুপারিশ প্রয়োজন হয় না।’

নিজ যোগ্যতায় পুলিশে চাকরি পাওয়ায় বাড়িতে এসে মনি রায়কে মিষ্টি করান পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েমসহ অন্য কর্মকর্তারা।

মালিগ্রাম থেকে পুলিশ কর্মকর্তারা যান একই উপজেলার উথরাইল এলাকার চানাচুর বিক্রেতা রঞ্জিত রায়ের বাড়িতে। সেখানে তার স্ত্রী সুধা রায় ও সদ্য পুলিশে নিয়োগ পাওয়া মনি রায়ের হাতে মিষ্টি তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা জানান পুলিশের কর্মকর্তারা।

এ সময় মনি রায় বলেন, ‘আমি পুলিশে চাকরি পেয়েছি কোনও টাকা ছাড়াই। আমিও যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন কোনও প্রকার ঘুষ গ্রহণ করবো না। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদমুক্ত দেশ গড়তে সব ধরনের চেষ্টা করবো।

মা সুধা রায় বলেন, ‘এটা অনেক বড় পাওয়া যে টাকা ছাড়াই চাকরি পেয়েছে আমার মেয়ে। এটা একটা স্বপ্নের মতোই মনে হয় যে চানাচুর বিক্রেতার মেয়ে এখন পুলিশ। বাজারে বাজারে ওর বাবা চানাচুর বিক্রি করে। ঘুষ দিয়ে চাকরি নেবে এমন সামর্থ্য তো আমাদের নেই। আবার পুলিশের কর্মকর্তারা মিষ্টি নিয়ে আমার বাড়িতে এসেছেন এটা এক মহা আনন্দের ব্যাপার।’

পরে পুলিশের কর্মকর্তারা বিরল উপজেলার মঙ্গলপুর উত্তর বিষ্ণুপুর গ্রামের সুস্মিতা দেব শর্মার বাড়িতে যান।

সুস্মিতা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, সব ক্ষেত্রেই এমনটা হলে সমাজ বদলে যাবে। আমরা যারা আজ এভাবে পুলিশে চাকরি পেলাম তারাও আগামীতে কোনও কাজে অনৈতিকভাবে টাকা আদায় করবো না।

 

/টিএন/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
ওপেনএআই’র নতুন বাজি ‘কোডেক্স’
ওপেনএআই’র নতুন বাজি ‘কোডেক্স’
বহু কাজ এখনও বাকি, কীভাবে চালু হবে শিশু হাসপাতাল
বহু কাজ এখনও বাকি, কীভাবে চালু হবে শিশু হাসপাতাল
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন তো ইয়ামাল? 
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন তো ইয়ামাল? 
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের