কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নে ছেলেধরা সন্দেহে এক কাঠুরিয়াকে গণপিটুনি দিয়েছেন একটি স্কুলের শিক্ষকসহ স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই কাঠুরিয়াকে উদ্ধার করে প্রথমে উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওই স্কুল শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী ওই কাঠুরিয়ার নাম আলাউদ্দিন (৫০)। তিনি হাতিয়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ডারারপার উচার ভিটা গ্রামের বাসিন্দা।
কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার মো. মহিবুল ইসলাম খান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় জড়িত বাকিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কাঠুরিয়া আলাউদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) সারাদিন গাছ কাটার কাজ শেষে বিকাল ৫ টার দিকে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় তার কাঁধে গাছ কাটা করাত এবং মোটা রশি ছিল। ফেরার পথে হাতিয়া ইউনিয়নের চৌমোহনী বাজার সংলগ্ন পল্লী উন্নয়ন রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের সামনে এলে ওই স্কুলের এক শিশু শিক্ষার্থী পেছন থেকে তার কাঁধে থাকা করাত ধরে টান দেয়। এতে তিনি আঘাত পেয়ে ধমক দিলে শিশুটি স্কুলের ভেতর প্রবেশ করে। তিনি স্কুল কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ দেওয়ার উদ্দেশে স্কুলে প্রবেশ করলে শিশুটি তাকে দেখে ‘মাথা কাটা’ বলে চিৎকার করে। এসময় স্কুলটির কয়েকজন শিক্ষকসহ প্রায় ৬-৭ জন লোক তাকে আটক করে তার কাঁধে থাকা গাছ কাটার কাজে ব্যবহৃত রশি দিয়ে তাকে বেঁধে পেটানো শুরু করে। তিনি এসময় নিজের পরিচয় দিয়ে বারবার মারতে নিষেধ করলেও কেউ কোনও কথা শোনেনি।
আলাউদ্দিন বলেন, ‘মুই চিকরি চিকরি (চিৎকার করে) কওয়ার (বলার) পরও ওমরা মোক বান্দি (বেঁধে) পিটাইছে। ছাওয়াটার মিছা কথা শুনি ওমরা মোর কোনও কথা শোনে নাই। মোক কিল ঘুষি মারছে, ফির সাইকেলের চেন দিয়াও মারছে। পরে চেয়ারম্যান আর পুলিশ আসি মোক হাসপাতালত পাঠে দিছে।’
ঘটনার শিকার আলাউদ্দিনকে এলাকায় সবাই ভালো করে চেনে দাবি করে আহত এই কাঠুরিয়ার ছেলে আমিনুল জানান, তার বাবাকে ওই এলাকায় সবাই চেনে। এরপরও স্কুলের শিক্ষকরা কেন এমন করে তার বাবাকে পিটিয়েছে সেটা তিনি বুঝতে পারছেন না। এ ঘটনায় মামলা করবেন জানিয়ে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছেন আমিনুল।
উলিপুর থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) মো. মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, 'এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ওই স্কুলের শিক্ষক আব্দুল মমিনকে আটক করা হয়েছে। আরও কে কে জড়িত রয়েছে সে ব্যাপারে অনুসন্ধান চলছে।'
কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার মো. মহিবুল ইসলাম খান বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা হবে। জড়িত সব ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হবে।’








