নীলফামারীতে বাড়ছে ডায়রিয়া-নিউমোনিয়া, হাসপাতালেও স্বস্তি পাচ্ছেন না রোগীরা

তৈয়ব আলী সরকার, নীলফামারী
১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:২০আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:৩১

নীলফামারী জেলা সদর হাসপাতাল

ভাদ্র মাস শেষ, আশ্বিন শুরু। আবহাওয়া পরিবর্তন হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঋতুচক্রের ধারা বদলে গেছে। তাই মধ্য শরতেও কখনও ঠাণ্ডা, কখনও গরম, আবার কখনও হচ্ছে বৃষ্টিপাত। তাপমাত্রা ওঠা-নামার কারণে নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস ও ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে, শিশুদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে গেলেও জায়গার অভাবে মেঝেতে অবস্থান নিতে হচ্ছে তাদের।   

জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালে কমপক্ষে ২৪০ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ১৪০ জনই শিশু।

হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের নার্স মোছা. মিতু আকতার বলেন, ‘আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে শিশুরা হঠাৎ করে নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছে। এর মধ্যে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেশি।’

শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এনামুল হক বলেন, ‘আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে শিশুরা নিজেকে মিলিয়ে নিতে না পারায় প্রথমে পাতলা পায়খানা ও পরে জ্বরসহ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। পাশাপাশি বয়স্ক ও বৃদ্ধরাও ডায়রিয়া ও ব্রঙ্কাইটিস রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়াডে ভর্তি হচ্ছে।’

এদিকে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে সরেজমিনে দেখা যায়, বিছানা সংকটের কারণে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন আজহারুল ইসলাম (২৫)। তিনি বলেন, ‘শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছি। কিন্ত বিছানা না পেয়ে মাটিতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি।’

ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বিছানার সংখ্যা ১০টি কিন্তু ৪১ জন রোগী ভর্তি আছেন বলেও জানা গেছে।

নীলফামারী জেলা সদর হাসপাতাল

ডায়রিয়া আক্রান্ত আজহারুলের বাবা মো. আছিমুদ্দিন (৫৬) বলেন, ‘এখানে পায়খানা ও প্রস্রাবখানার যে অবস্থা, তাতে ডায়রিয়া সারা তো দূরের কথা, এখান থেকে ডায়রিয়া নিয়ে বাড়ি যেতে হবে। শিশুরাও মাটিতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।’

একই ওয়ার্ডের ভর্তি ১৭ মাস বয়সের শিশু আব্দুর রহমানের মা শাপলা বেগম (৩০) বলেন, ‘শয্যা সংকটের কারণে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি। এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নোংরা বাথরুম-টয়লেট। মাঝরাতে বিদ্যুৎ থাকে না। গরমে জীবন যায়।’

ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ২ নং বিছানার রোগী মোস্তাকিমা (১২) বলেন, ‘সকালে একবার ডাক্তার এসে দেখে গেছে, সারাদিন একবারও আসেনি। রোগীর সমস্যা হলে কাগজপত্র (ব্যবস্থাপত্র) নিয়ে জরুরি বিভাগের ডাক্তারের কাছে যেতে হয়।’

শয্যা সংকটের কথা শিকার করে হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ও সুপারভাইজার কল্পনা রানী দাস বলেন, ‘ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বিছানা সংকট রয়েছে। তাই আক্রান্তরা বাধ্য হয়ে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ব্যাপারটি কর্তৃপক্ষের নজরে দিয়েও কোনও কাজ হয়নি।’

এ ব্যাপারে নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. আবু শফি মাহমুদ বলেন, ‘আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে ডায়রিয়াসহ অন্যান্য রোগে রোগীর সংখ্যা হঠাৎ করে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে শুধু ডায়রিয়া ওয়ার্ডেই বিছানা (সমস্যা) সংকট নয়, এই সমস্যা পুরো হাসপাতালে। এখানে ৫০ শয্যার হাসপাতালের জনবল বা লোকবল দিয়ে ১০০ শয্যার হাসপাতালের চিকিৎসা দিতে হয়। আশা করি পাশেই নির্মাণাধীন ২৫০ শয্যার ভবনটি চালু হলে এই সংকট কেটে যাবে।’

জেলার সিভিল সার্জন ডা. রনজিৎ কুমার বর্মন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রতিদিন ইনডোরে ৮০০ ও আউটডোরে ৭০০ রোগির চিকিৎসা দিতে হয়। রোগীদের সাধ্যমত সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

 

/এএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম