এবার পাবনার নয় উপজেলার ৩৪৩টি পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। ইতোমধ্যে মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির ধুম। প্রতিমাশিল্পীদের মাটির কাজ শেষের দিকে। রঙতুলির আঁচড় পড়বে আর দু-একদিনের মধ্যেই।
সরেজমিন পাবনা জয়কালী বাড়ি মন্দিরে দেখা যায়, দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন প্রতিমা তৈরির শিল্পীরা। মণ্ডপে আসা ভক্ত ও দর্শকরা প্রতিমা নির্মাণ দেখতে ভিড় করছেন। ভক্তদের চোখে প্রিয় প্রতিমাকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে অনেক মমতায় সব চেষ্টা যেন ঢেলে দিয়েছেন এসব শিল্পী। পাবনার প্রতিটি মন্দিরে তাদের এমন শৈল্পিক কারুকাজের দৃশ্য চোখে পড়ে।
প্রতিমাশিল্পী ধনু পাল ও বিনয় পাল বলেন, ‘প্রতিমা তৈরি করে তাদের বেশি পারিশ্রমিক মেলে না। প্রতিমা তৈরির উপকরণ মাটি, খড় ও সুতলির দামও বেড়ে গেছে। আগের মতো আর প্রতিমা তৈরি করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’
তারা জানান, সবার কাছে আবেদনময় একটি প্রতিমা তৈরি করতে অনেক সময় লাগে। কিন্তু তারা বাজার মূল্যের সঙ্গে পেরে উঠছেন না। বাড়েনি তাদের কষ্ট আর ঘামের মজুরি। এসব শিল্পীরা পূজা সংশ্লিষ্টদের কাছে মজুরি বাড়ানো বা প্রতিমার দাম বাড়ানোর তাগিল দিলেও তারা কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।
পাবনার জয়কালীবাড়ি মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক প্রলয় চাকী বলেন, ‘পাবনায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। প্রতিবছর সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার মাধ্যমে এই উৎসব সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়।’ শহরের ৩৪টি মণ্ডপসহ জেলার সব উপজেলাতে আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে বলে তিনি আশাবাদী।
পাবনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সম্পাদক বাদল ঘোষ জানান, উৎসব সফল করতে প্রশাসনসহ সব মহলের সহযোগিতা অতীতের মতোই অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করছেন তিনি।
পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্গাপূজাকে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দময় করে তুলতে পুলিশ ও অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। সব মণ্ডপে পোশাক পরিহিত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এছাড়াও কয়েকটি পূজামণ্ডপ মিলে ভাগ করে করে মোবাইল টিম থাকবে।’
দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে জেলা পুলিশ যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছে বলে জানা গেছে।








