মিয়ানমার থেকে আসা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ দামে

হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম
০৩ অক্টোবর ২০১৯, ১০:৩১আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০১৯, ১১:০৬

পেঁয়াজ ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণার পর গত চারদিনে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে দুই হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ এসেছে। প্রতিদিন গড়ে চারশ’ থেকে পাচঁশ’ টন পেঁয়াজ আসছে। তবে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েনি। সেখানে বেশি দামেই বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। আমদানি মূল্যের দ্বিগুণেরও বেশি দামে পেঁয়াজ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ক্রেতারা।

কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী আবুল হাশেম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘মিয়ানমার থেকে প্রচুর পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে চারশ’ থেকে পাচঁশ’ টন পেঁয়াজ বাংলাদেশে ঢুকছে।’ 

তিনি জানান, ২২টি বিল অব এন্ট্রির বিপরীতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে গতকাল বুধবার (২ অক্টোবর) পর্যন্ত পেঁয়াজগুলো আমদানি করা হয়। এর মধ্যে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ৭টি বিল অব এন্ট্রির বিপরীতে সাতটি প্রতিষ্ঠান ৩৪০ কেজি পেঁয়াজ আমদানি করে। পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর আটটি বিল অব এন্ট্রির বিপরীতে আটটি প্রতিষ্ঠান ৫৮৪ টন পেঁয়াজ আমদানি করে। এরপর গত ১ অক্টোবর সাতটি বিল অব এন্ট্রির বিপরীতে সাতটি প্রতিষ্ঠান পেঁয়াজ আমদানি করে ৪৬৮ টন। সর্বশেষ ২ অক্টোবর ছয়টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান পেঁয়াজ আমদানি করে ৪৮৩ টন। মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি

এদিকে প্রতিদিন মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করলেও খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েনি। খুচরা বাজারে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। তবে পাইকারি বাজারে কিছুটা দাম কমেছে। খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, মিয়ানমার থেকে আনা প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫টি টাকায়। অন্যদিকে খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায়। অথচ এই পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে ২৬ থেকে ৪২ টাকায়।

মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের একাধিক বিল অব এন্ট্রি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আমদানি করা পেঁয়াজগুলো প্রতিকেজি ৩৫ থেকে ৪২ টাকা দাম পড়ছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর মিয়ানমার থেকে ৯৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করে সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজ। চালানটির বিল অব এন্ট্রি নম্বর ৩১২৩। ওই বিল অব এন্ট্রিতে দেখা যায় পেঁয়াজের প্রতিকেজি দাম পড়েছে শূন্য দশমিক ৩২ ডলার, যা বাংলা টাকায় পড়ছে মাত্র ২৬ টাকা। অন্যদিকে গত ১ অক্টোবর মাহি অ্যান্ড ব্রাদার্স ১০০ টন পেঁয়াজ আমদানি করে। বিল অব এন্ট্রিতে ওই পেঁয়াজের প্রতি কেজির দাম পড়েছে শূন্য দশমিক ৫০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪২ টাকা। এই চালানটির বিল অব এন্ট্রি নম্বর ৩১৪১।

টেকনাফ স্থলবন্দরের বাইরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়েও মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আনা হচ্ছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার নর্থ ব্রুক হল রোডের আমদানিকারক হাফিজ করপোরেশন মিয়ানমার থেকে দুই চালানে ১৩৯ টন পেঁয়াজ আমদানি করে। ৫৩ হাজার ১৫৪ ডলার দিয়ে আনা পেঁয়াজগুলোর প্রতি কেজি আমদানিতে টাকার হিসেবে খরচ পড়ে ৩২ টাকা। গত ১ অক্টোবর পেঁয়াজগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছার পর ইতোমধ্যে জাহাজ থেকে পেঁয়াজভর্তি কন্টেইনারগুলো খালাস করা হয়েছে। মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি

আমদানিতে ৩২ থেকে ৪২ টাকা দরে এসব পেঁয়াজ আনা হলেও খুচরায় একজন সাধারণ ভোক্তাকে দ্বিগুণ দামেই কিনতে হচ্ছে। মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) পেঁয়াজের পাইকারি বাজার চট্টগ্রাম নগরীর খাতুনগঞ্জে জেলা প্রশাসনের অভিযানের পর পাইকারিতে দাম কিছুটা কমলেও খুচরায় এখনও আগের দামে মিয়ানমারের পেঁয়াজ বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।

নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজার, চৌমুহনী বাজার, বহদ্দারহাট কাঁচা বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, মিয়ানমারের প্রতিকেজি পেঁয়াজ খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকা। তবে রিকশা ভ্যানে এসব পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০টাকায়।

বুধবার নগরীর চৌমুহনী কাঁচা বাজার থেকে পেঁয়াজ কেনেন বেসরকারি চাকরিজীবী আহমেদ উল্যাহ। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। অন্যদিকে মিয়ানমারের পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকায়।’ খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে নগরীর এসব বাজারে অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন এই ক্রেতা।

একই দাবি জানিয়েছেন নগরীর লালখান বাজার এলাকার বাসিন্দা শাহ নেওয়াজ। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাংলাদেশে কোনও পণ্যের দাম একবার বেড়ে গেলে সেটি আর কমাতে চান না ব্যবসায়ীরা। বাড়তি দামে কেনা দাবি করে ব্যবসায়ীরা অনেকদিন বেশি দামে বিক্রি করেন। এখন পেঁয়াজের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পেঁয়াজের দাম পাইকারিতে কমলেও খুচরা বিক্রেতারা এখনও দাম কমাননি। তারা চলতি সপ্তাহের শুরুতে বেড়ে যাওয়া দামেই পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। খুচরায় পেঁয়াজের দাম কমিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের মুদি দোকানগুলোতে অভিযান চালানো উচিত।’

কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘খুচরা পর্যায়ে পেঁয়াজের দাম কমিয়ে আনতে বাজার মনিটরিংয়ের বিকল্প নেই। জেলা প্রশাসনের অভিযানের পর পাইকারিতে যেভাবে দাম কমেছে,  প্রশাসন মনিটরিং করলে এভাবে খুচরা পর্যায়েও পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। প্রশাসন আগে থেকেই পেঁয়াজের বাজার নিয়ে সচেতন না থাকায় ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আমদানিকারকদের সঙ্গে যোগসাজশে ব্যবসায়ীদের একটি অসাধু চক্র অযৌক্তিকভাবে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।’

আরও পড়ুন- 

মিয়ানমার থেকে দেশে এলো আরও ৫৮৪ মেট্রিক টন পেঁয়াজ

মিয়ানমার থেকে আসা ১১০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ টেকনাফে

রাতারাতি কেন বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করলো ভারত?

দুই-এক দিনের মধ্যে পেঁয়াজের মূল্য কমতে শুরু করবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

/এফএস/এমএমজে/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
প্রতিনিধি পরিষদের ইরান যুদ্ধ-বিরোধী ভোটের প্রতিক্রিয়ায় মুখ খুললেন ট্রাম্প
প্রতিনিধি পরিষদের ইরান যুদ্ধ-বিরোধী ভোটের প্রতিক্রিয়ায় মুখ খুললেন ট্রাম্প
জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করছে জাতীয় সংসদ: স্পিকার
জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করছে জাতীয় সংসদ: স্পিকার
এই অর্জন বাংলাদেশের শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরে: খলিলুর রহমান  
এই অর্জন বাংলাদেশের শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরে: খলিলুর রহমান  
‘মুখ খোলো মমতা, জানতে চায় জনতা’ স্লোগানে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল
‘মুখ খোলো মমতা, জানতে চায় জনতা’ স্লোগানে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী