নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মেঘনা নদীতে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে জাহাজ থেকে তেল চুরি চক্রের সদস্যরা। দিনে ও রাতের বেলায় চট্টগ্রাম ও সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি তেল ডিপো থেকে তেল নিয়ে আসা জাহাজের কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজস করে কোটি কোটি টাকার তেল চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে এ চক্র। এসব চুরি হওয়া তেল স্থানীয় বাজার ও নদীর ঘাটে দোকান খুলে বিভিন্ন ইঞ্জিনচালিত নৌযানে বিক্রি করা হচ্ছে। এ সিন্ডিকেটের কারণে অসহায় হয়ে পড়েছেন নদীতে চলাচল করা জাহাজের শ্রমিক ও কর্মচারীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পিরোজপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ২০ থেকে ২৫ জন মিলে মেঘনা নদীতে চোরাই তেলের একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এই চোরাকারবারি চালিয়ে আসছে। সম্প্রতি র্যা ব-১১ এর একটি দল সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে অভিযান চালিয়ে তেল চোর সিন্ডিকেটের মূলহোতা রফিকুল ইসলাম সরকারসহ দুই জনকে গ্রেফতার করে। ৯ দিন জেলহাজতে থাকার পর জামিনে এসে রফিকুল ইসলাম তার চক্র নিয়ে ফের তেল চুরি শুরু করেছে।
জানা গেছে, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ছয়হিস্যা গ্রামের মৃত কাশেম সরকারের ছেলে রফিকুল ইসলাম সরকার, মেঘনা প্রতাবের চর গ্রামের ছমিরউদ্দিন প্রধানের ছেলে সাহাবুদ্দিন, সেলিম রেজা, পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আলমগীর হোসেন, লুৎফর রহমান, নজরুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম ও শ্যামলসহ ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সিন্ডিকেট মেঘনা নদীতে বিভিন্ন জাহাজ থেকে সয়াবিন, পামওয়েল, ডিজেল ও কেরোসিন তেল চুরি করে।স্থানীয় বিভিন্ন বাজার ও মেঘনা নদীর তীরে ছোট ছোট ঘর তৈরি করে এসব তেল বিক্রি করে থাকে। এছাড়া অবৈধ ব্যবসায়ের টাকার ভাগ সোনারগাঁও থানার একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা পেয়ে থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি থানা প্রশাসন। সম্প্রতি র্যা বের অভিযানে ১০ ব্যারেল চোরাই তেলসহ মেঘনা ঘাট এলাকা থেকে সেলিম রেজা নামের এ সিন্ডিকেটের একজন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর সিন্ডিকেটের অন্যদের নাম একে একে বেরিয়ে আসে। সেলিম রেজাকে র্যা বের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিতে সিন্ডিকেটের প্রধান রফিকুল ইসলাম সরকার ১০ লাখ টাকা ঘুষ দিতে গিয়ে টাকাসহ গ্রেফতার হয়। তার স্বীকারোক্তিতে র্যা ব তার বাড়ির কাছে ঘাট থেকে প্রায় ২১ লাখ টাকার চোরাই তেলসহ তিনটি স্টিলের ইঞ্জিনচালিত বোর্ড জব্দ করে। এ ঘটনায় ৯ দিন হাজতে থাকার পর জামিনে বের হয়ে রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ওই সিন্ডিকেট আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘অভিযোগ সত্য নয়। আমার বিরুদ্ধে করা মামলা সোনারগাঁও থানা পুলিশ তদন্ত করছে।’
সোনারগাঁও থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ‘তেল চোর সিন্ডিকেট চক্রকে গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চলছে। পুলিশের কোনও সদস্য জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’







