বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে এসে অতিরিক্ত ইয়াবা সেবনের ফলে এক নারী শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ ও চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে। শুক্রবার রাতে শহরের ‘হোটেল জামান’-এর কক্ষে মৃত্যু হয় রাজধানীর একটি প্রতিষ্ঠানে এ লেভেল পড়ুয়া ওই শিক্ষার্থীর। পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত শিক্ষার্থীর বন্ধু ওয়ালী আহমদ খানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রবিবার (২২ ডিসেম্বর) কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাহীন আবদুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘শুক্রবার সন্ধ্যার পর মেয়েটিকে যখন জরুরি বিভাগে যখন আনা হয়, তখন আমি তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম। কিন্তু সঙ্গে থাকা বন্ধুরা ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা বলে তাকে ভর্তি না করে হোটেল ফিরিয়ে নিয়ে যান। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আবারও হাসপাতালে আসেন তারা, ততক্ষণে মেয়েটি মারা গেছেন। অতিরিক্ত ইয়াবা সেবনের কারণে মেয়েটি অসুস্থ হয়েছিল বলে সঙ্গের বন্ধুরা জানিয়েছে।’
এদিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেণ, ‘প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্টের আগে কিছু বলা যাচ্ছে না। আপাতত ইয়াবার সেবনের বিষয়টির ওপর জোর দিচ্ছি আমরা।’
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি তদন্ত মো. খায়েরুজ্জামান বলেন, ‘তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পর সব পরিষ্কার হবে। এর আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাচ্ছে না।’
কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মো. শরীফ উল্লাহ নিহত ছাত্রীর পারিবারের বরাত দিয়ে জানান, মূলত মামার বাড়ি যাওয়ার কথা বলেই বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজার এসেছিলেন ওই ছাত্রী। মৃত্যুর খবর পেয়ে শনিবার সকালে তার ব্যবসায়ী বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা ছুটে আসনে কক্সবাজারে। শনিবার ময়নাতদন্ত শেষে লাশ ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি তদন্ত মো. খায়েরুজ্জামান বলেন, ‘ওই ছাত্রীর মৃত্যুও খবর শুনে কয়েকজন বন্ধু পালিয়ে গেলেও একজনকে আটক করে পুলিশ। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হোটেলে ইয়াবা সেবনের তথ্য পাওয়া গেছে। এই ইয়াবা কোথায় থেকে সরবরাহ করা হলো তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে। ধর্ষণের বিষয়টি ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পর পরিষ্কার হবে। এর আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাচ্ছে না।’








