পা দিয়ে লিখে জিপিএ-৫

সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হতে চায় মানিক

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
০১ জানুয়ারি ২০২০, ১৭:০২আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২০, ১৭:৫৭



বছরের প্রথম দিন বই হাতে পেয়ে উচ্ছ্বসিত মানিক দুই হাত ছাড়াই জন্ম হয়েছিল মানিকের। শারীরিকভাবে অন্য দশজন শিশু-কিশোরের মতো নয় সে। তাতে দমে যায়নি মানিক। পড়ালেখায় অন্যদের চেয়ে বরং এগিয়ে সে। ২০১৬ সালে পা দিয়ে লিখে প্রাথমিক সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে। ২০১৯ সালে জেএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ অর্জন করে সে। মানিক রহমান ফুলবাড়ী জছি মিঞা মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। সে একই উপজেলার দর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা গ্রামের মিজানুর রহমান-মরিয়ম বেগম দম্পতির বড় ছেলে।

বছরের প্রথম দিনে নতুন বই হাতে নিয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কাছে হার না মানার প্রতিজ্ঞার কথা জানায় মানিক,  ‘আমার দুটো হাত না থাকলেও আল্লাহ রহমতে পা দিয়ে লিখে এতদূর এসেছি। স্কুল জীবনের শুরুতে সহপাঠীরা অন্য দৃষ্টিতে দেখলেও এখন সবাই আমার বন্ধু। সবাই সহযোগিতা করে।’

ভবিষ্যতে সফটওয়্যার  ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন মানিকের, ‘এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাই। বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করে যেন তাদের পাশে দাঁড়াতে পারি সেটাই লক্ষ্য। আমার প্রত্যাশা আমি যেন নিজের লক্ষ্যে পৌঁছে বাবা-মায়ের সত্যিকারের মানিক হতে পারি।’ বছরের প্রথম দিন বই হাতে পেয়ে উচ্ছ্বসিত মানিক

মানিকের বাবা মিজানুর রহমান বলেন, ‘জন্ম থেকেই মানিকের দুই হাত ছিল না। আমরা তাকে পা দিয়ে লেখার অভ্যাস করিয়েছি। এজন্য আমার স্ত্রী মরিয়ম বেগমের অবদানই বেশি। সমাজে অনেক সুস্থ ও স্বাভাবিক ছেলে-মেয়েদের চেয়েও মানিক লেখাপড়ার পাশাপাশি সংস্কৃতি চর্চা ও কম্পিউটার পরিচালনায় বেশি পারদর্শী। ওর জন্য আমরা গর্ব বোধ করি।’

ফুলবাড়ী জছি মিঞা মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবেদ আলী খন্দকার বলেন,‘শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও মানিক অসাধারণ শিক্ষার্থী। সে আমাদের বিদ্যালয়ের সম্পদ। সে ডান পায়ে বুড়ো আঙ্গুলের ফাঁকে কলম ধরে লিখে আর বাম পা দিয়ে প্রশ্ন ও খাতার পাতা উল্টাতে পারে। এভাবে পরীক্ষা  দিয়ে সে পিইসি ও জেএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।’

প্রসঙ্গত, বছরের প্রথম দিনে সারাদেশের ন্যায় কুড়িগ্রামেও বই উৎসব পালিত হয়েছে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় জানায়, ২০২০ সালে জেলায় মাধ্যমিক ও সমমান পর্যায়ে ৩ লাখ ২২ হাজার ৪০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৪২ লাখ বইয়ের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র মতে, ২০২০ সালে জেলায় প্রাথমিক ও সমমান পর্যায়ে ৯ উপজেলায় ১৫ লাখ ৬৩ হাজার ৪৩৫ কপি বই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে স্কুল পর্যায়ে ১৪ লাখ ১৫ হাজার ৯২৭ কপি বই বিতরণ করা হয়েছে। আর প্রাক প্রাথমিক পর্যায়ে ১ লাখ ১ হাজার ৩৫০ কপি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে ৯৬ হাজার ৩৯৪ কপি বই বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও প্রাথমিক পর্যায়ে দুইটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ ৪টি বিদ্যালয়ে ইংরেজি ভার্সনে ৯১১ কপি বই বিতরণ করা হয়েছে।

/এমআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মাজারের কুমিরটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিবিড় পর্যবেক্ষণে
মাজারের কুমিরটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিবিড় পর্যবেক্ষণে
শিশু রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, আদালতে আনা হয়েছে আসামিদের
শিশু রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, আদালতে আনা হয়েছে আসামিদের
৫৩০০ বছর পরও মমিতে জীবিত অণুজীব
৫৩০০ বছর পরও মমিতে জীবিত অণুজীব
কথা বলার সময় স্মার্টফোন দ্রুত গরম হয়ে যায়? কারণ ও প্রতীকারের উপায়
কথা বলার সময় স্মার্টফোন দ্রুত গরম হয়ে যায়? কারণ ও প্রতীকারের উপায়
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের