পরীক্ষায় পাস না করেও রাবিতে ভর্তির সুযোগ!

তৌসিফ কাইয়ুম, রাবি
০১ জানুয়ারি ২০২০, ২৩:৪৭আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০৩

ভর্তি পরীক্ষায় পাস না করেও রাবিতে ভর্তির সুযোগ!

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া সত্ত্বেও এক পরীক্ষার্থীকে ভর্তি সুযোগ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও বিশেষ অনুমতিতে আরও দুই শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। যাদের সাবজেক্ট চয়েসের যোগ্যতাও ছিল না। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে তাদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।

অকৃতকার্য হয়েও ভর্তির সুযোগ পাওয়া ওই শিক্ষার্থীর নাম নার্গিস খাতুন। তিনি ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষায় ব্যবসায় অনুষদভুক্ত ‘‘বি’’ ইউনিটে পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তার রোল নম্বর ১৩৬৭২। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, তিনি এমসিকিউতে পেয়েছেন ২১ নম্বর। কিন্তু এই নম্বর দিয়ে মোট আসনের বিপরীতে দশগুন শিক্ষার্থীর তালিকায় না থাকায় তার লিখিত পরীক্ষার খাতাও মুল্যায়ন করা হয় নি। কিন্তু ৩১ ডিসেম্বর প্রকাশিত বিশেষ অনুমতির তালিকায় তাকে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে ভর্তি সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

 

বিশেষ অনুমতিতে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক একে শামসুদ্দোহা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা ওই শিক্ষার্থীর একাডেমিক বিষয়টি খেয়াল করিনি। সে অনুর্ধ্ব ১৯ জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে অনেক ম্যাচ খেলেছে। সে ক্রীড়াঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সুনাম নিয়ে আসবেন। তাই বি ইউনিটে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

ক্রীড়াঙ্গনের সুনামের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগ রয়েছে। সেখানে খেলোয়াড়দের জন্য ১০ শতাংশ আসন বরাদ্দ রয়েছে, তবে ব্যবসায় অনুষদে ভর্তি কেন এমন প্রশ্নে অধ্যাপক শামসুদ্দোহা বলেন, শিক্ষার্থীরও পছন্দের বিষয় রয়েছে। এছাড়া ক্রীড়া বিজ্ঞান সি ইউনিটের। ওই শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে বি ইউনিটে।

বিশেষ অনুমতিতে ভর্তির জন্য প্রকাশিত তালিকায় আরও দুই শিক্ষার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়েছে। এদের মধ্যে মো. আশিকুর রহমান আশিক নামে এক শিক্ষার্থীকে মার্কেটিং বিভাগে ভর্তি সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তিনি ভর্তি পরীক্ষায় ৪১.৫ নম্বর পেয়ে কৃতকার্য হন। তার মেধাক্রম ছিল ৩৮৮৩। তার সাবজেক্ট চয়েসের জন্য যোগ্যতাও ছিল না। এছাড়া রিন্টু তানচাঙ্গায় নামে আরেক শিক্ষার্থীকে ভর্তি সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তিনি ভর্তি পরীক্ষায় ৪৯ নম্বর পেয়ে মেধাক্রম অনুসারে ২৪১৯তম হয়েছিলেন। তারও সাবজেক্ট চয়েসের যোগ্যতা ছিল না।

এই শিক্ষার্থীদের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক শামসুদ্দোহা বলেন, রিন্টু ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। সে পরীক্ষায় ভাল করেছে, মেধাক্রমও ভাল। কিন্তু আবেদনের সময় ভুলবশত ক্ষুদৃ নৃগোষ্ঠী কোটার ঘরটি পূরণ করতে পারেনি। তাই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি আশিকুর রহমানের বিষয়টি এড়িয়ে যান। কয়েকবার প্রশ্ন করার পর তিনি বলেন, কী কারণে সুযোগ দেওয়া হয়েছে সেটি আমরা মনে নাই।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের বি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৫৬০ আসনের বিপরীতে ১৫ হাজার সাতশ বত্রিশ শিক্ষার্থী আবেদন করে।

/এমআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু 
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু 
বিক্রির জন্য নিলামে উঠছে এই আধুনিক দুর্গটি
বিক্রির জন্য নিলামে উঠছে এই আধুনিক দুর্গটি
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম