২০১৯ সালের শেষ দিন। গ্রামের প্রভাবশালীদের বাধার সম্মুখীন হয়ে ঘটনার চারদিন পর রৌমারী থানায় আসেন এক অসহায় মা। তার অভিযোগ, এলাকার ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তি তার ১২ বছর বয়সী বাকপ্রতিবন্ধী মেয়েকে পাশবিক নির্যাতন করেছে। বিষয়টি নাড়া দেয় রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মো. দিলওয়ার হাসান ইনামকে। তিনি অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মতিনকে। পুলিশের পোশাক পরে এলাকায় গেলে অভিযুক্ত খবর পেয়ে সরে পড়তে পারে– এমন আশঙ্কায় মৌলভীর ছদ্মবেশ নেন ওই এসআই’সহ দুই পুলিশ সদস্য। তাদের এ কৌশল কাজে লাগে। পুলিশের জালে আটকা পড়ে অভিযুক্ত ধর্ষক আবুল কাশেম (৬৫)।
বুধবার (১ জানুয়ারি) কাশেমকে গ্রেফতার করে বৃহস্পতিবার জেল হাজতে পাঠায় পুলিশ। রৌমারী থানার ওসি এ তথ্য জানিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ ডিসেম্বর দুপুরে উপজেলার কাশিয়াবাড়ি গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে আবুল কাসেম বাকপ্রতিবন্ধী শিশুটিকে বিস্কুটের প্রলোভন দেখিয়ে নিজ ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটি বাড়িতে এসে তার মায়ের কাছে ইশারা-ইঙ্গিতে বিষয়টি জানায়।
শিশুটির মা বলেন, ‘মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখার পর বিষয়টি স্বজন ও গ্রামের মাতবরদের জানাই। থানায় বিচার দিতে চাইলে গ্রামের মাতবর সেকান মুন্সি, ওসমান গনি, নুর মোহাম্মদ ও হজরত আলী থানায় যেতে বাধা দেয়। তারা এর বিচার করে দেবে বলে কালক্ষেপণ করতে থাকে। পরে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সহায়তায় থানায় অভিযোগ দিই। আমি এমন জঘন্য অপরাধের বিচার চাই।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রৌমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মতিন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর বুধবার অভিযুক্তকে কাশিয়াবাড়ি এলাকার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্ত যাতে পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য ছদ্মবেশ ধারণ করে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এ বিষয়ে ওসি বলেন, ‘শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দিলে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। নির্যাতনের শিকার শিশুটিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে এলাকায় শিশুদের যৌন হয়রানি করার আরও অভিযোগ রয়েছে বলে জানান ওসি।








