শৈত্যপ্রবাহ উপেক্ষা করে ছুটে আসা দেশ-বিদেশের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমানের উপস্থিতিতে ইবাদত-বন্দেগি, জিকির-আসকার আর আল্লাহু আকবর ধ্বনিতে মুখর কহর দরিয়াখ্যাত টঙ্গীর তুরাগ পাড়ের বিশ্ব ইজতেমা ময়দান। ইজতেমার দ্বিতীয় দিন শনিবার ফজর থেকেই তুরাগ তীরে সোনাভান বিবির টঙ্গী শিল্প শহরের ইজতেমা মাঠে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে বয়ান চলছে। বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আজ দ্বিতীয় দিন। হিমেল হাওয়া আর কনকনে শীত উপেক্ষা করে আলেমদের বয়ান, তাশকিল, তাসবিহ-তাহলিলে দিন কাটাচ্ছেন।
ইজতেমার প্রথম পর্বের গণমাধ্যমবিষয়ক সমন্বয়কারী মুফতী জহির ইবনে মুসলিম জানান, ‘বাদ ফজর মুম্বাই মারকাজের মুরব্বি মাওলানা আবদুর রহমান উপস্থিত সাথীদের উদ্দেশে আম বয়ান করেন। পরে আলেম-ওলামাদের উদ্দেশে বিশেষ বয়ান করেন মাওলানা ইবরাহীম দেওলা। আরবের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বয়ান মাওলানা আকবর শরীফ, জোহরের পর মাওলানা ইসমাইল গোধরা, বাদ আসর শায়খ মাওলানা জোহায়ারুল হাসান, বাদ মাগরিব মাওলানা ইবরাহীম দেওলা বয়ান করবেন। এদিন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মাঠে বিশেষ বয়ান করবেন মাওলানা আহমদ লাট।’
দুই দিন ধরে ইজতেমা মাঠে সার্বক্ষণিক ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল রয়েছেন লাখ লাখ দেশি-বিদেশি মুসল্লি। প্রতিদিন ফজর থেকে এশা পর্যন্ত ইজতেমা মাঠে ঈমান, আমল, আখলাক, মেহনতের ওপর ও দ্বীনের পথে আমবয়ান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে তীব্র শীতের কারণে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মুসল্লিদের প্যান্ডেলের বাইরে যেতে দেখা যায়নি।
বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় দিনেও দেশ-বিদেশ থেকে আগত মুরব্বিরা তাবলিগের ছয় উসুলের মধ্যে দাওয়াতে দ্বীনের মেহনতের ওপর গুরুত্বারোপ করে বয়ান করেন। বয়ানে তারা বলেন, দুনিয়াতে যে একবার আসবে তাকে মৃত্যুবরণ করতে হবে। আল্লাহর এ সিদ্ধান্তের কোনও পরিবর্তন হবে না। তাই দুনিয়ার আরাম-আয়েশের কথা ভুলে গিয়ে আখেরাতের কথা চিন্তা করায় তাগিদ দেন তারা।
ইজতেমা মাঠের মুরুব্বি প্রকৌশলী মফিজুর রহমান জানান, ‘আজ হেদায়েত ও তাশকিলের বয়ান হবে। আগামীকাল রবিবার (১২জানুয়ারি) আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ইজতেমার প্রথম পর্ব শেষ হবে। আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন বাংলাদেশের কাকরাইলের মুরব্বি মাওলানা মোহাম্মদ জুবায়ের।’
আগামী ১৭ জানুয়ারি শুরু হবে তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। দ্বিতীয় পর্বে যোগ দেবেন ভারতের মাওলা সাদ কান্ধলাভীর অনুসারীরা।








