অগ্রগতি নেই সাংবাদিক বালু ও মানিক হত্যা মামলার তদন্তে

খুলনা প্রতিনিধি
১৩ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৬:১৭আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৬:১৮

Khulna Pic 1 (13-12-15)খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি স্থানীয় দৈনিক জন্মভূমির সম্পাদক হুমায়ুন কবির বালু এবং দৈনিক সংবাদের ব্যুরো প্রধান মানিক সাহা হত্যা ও বিস্ফোরক মামলা দুটি চাঞ্চল্যকর হিসেবে চিহ্নিত হলেও সাড়ে ৪ মাসে কোনও অগ্রগতি হয়নি। ফলে মন্থর গতিতে চলছে তদন্ত।
চলতি বছরের জুলাইয়ের শেষ দিকে চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক মামলা মনিটরিং কমিটির সভায় সর্বোচ্চ গুরুত্বে মামলা দুটি অধিকতর তদন্ত ও দ্রুত নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি জানানো হয়েছিল।
খুলনা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মো. মোস্তফা কামাল বলেন, শুধু এই দু’টি মামলা নয় বেশ কয়েকটি মামলা চাঞ্চল্যকর ও রোমহর্ষক হিসেবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। শিশু রাকিব হত্যা মামলাটির মতোই এসব মামলার ব্যাপারে সরকার আন্তরিক। খুব শিগগিরই দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সরকারি কৌঁসুলি পিপি কাজী আবু শাহীন বলেন, মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীরা আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় বিচার কাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। সাক্ষীদের হাজির করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

খুলনা ওয়ার্কিং জার্নালিস্ট ইউনিটের আহ্বায়ক গৌরাঙ্গ নন্দী বলেন, এ মামলা দু’টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা হবে। হত্যার মদদদাতা ও পরিকল্পনাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানান তিনি।

২০০৪ সালের ২৭ জুন জন্মভূমি কার্যালয়ের সামনে সম্পাদক বালু এবং একই বছরের ১৫ জানুয়ারি খুলনা প্রেসক্লাবের অদূরে মানিক সাহা নিহত হন। সদ্যগঠিত খুলনা ওয়ার্কিং জার্নালিস্ট ইউনিটি এই দুই সাংবাদিক হত্যা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে আন্দোলন করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জুলাই মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত মামলা মনিটরিং কমিটির সভায় এ দুটি হত্যাকাণ্ড চাঞ্চল্যকর ও রোমহর্ষক মামলা হিসেবে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

উল্লেখ্য, হুমায়ুন কবির বালু আততায়ীদের বোমা হামলায় নিহতের ঘটনায় পুলিশ পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করে। ২০০৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন বিচারক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম শিকদার সাংবাদিক বালু হত্যা মামলার রায়ে সব আসামিকে বেকসুর খালাস দেন। এরপর ২০০৯ সালের ১৫ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী এনামুল হক বিস্ফোরক মামলাটি অধিকতর তদন্তের আবেদন জানান। সে পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের ১০ মে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিতে পাঠাতে নির্দেশ দেয় আদালত। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৭ জন তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে। অপরদিকে, মানিক সাহা হত্যাকাণ্ডের পর খুলনা থানার তৎকালীন এস আই রণজিৎ কুমার পাল বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দু’টি মামলা দায়ের করেন। দুই মামলার তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর ১৩ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করা হয়েছিল। পরে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয়। এরপর আরও একজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে সম্পূরক অভিযোগ পত্র দাখিল করা হয়। মামলাটি বর্তমানে মহানগর দায়রা জজ আদালত-১ এ বিচারাধীন।

বর্তমানে বালু হত্যার বিস্ফোরক অংশের মামলাটি তদন্তকারী সিআইডি’র সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। আগামী বছরের প্রথমদিকেই প্রতিবেদন দাখিলের সম্ভাবনা রয়েছে।

 

/জেবি/টিএন/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
বিএসইসির চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ ও ৪ কমিশনারের পদত্যাগ
বিএসইসির চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ ও ৪ কমিশনারের পদত্যাগ
দাম বৃদ্ধির একদিন পরই লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য রিভিউ আবেদন
দাম বৃদ্ধির একদিন পরই লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য রিভিউ আবেদন
ফোনালাপ ফাঁসের পর বদলি করা হলো জেল সুপারকে
ফোনালাপ ফাঁসের পর বদলি করা হলো জেল সুপারকে
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম