প্রবাসীরা দেশের উন্নয়নে বড় অবদান রাখছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ। তিনি বলেন, ‘প্রবাসী শ্রমিকদের আয় দেশের জন্য একটা বড় আর্শীবাদ। প্রবাসীরাই দেশের বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সাহস জুগিয়েছেন।’ শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আয়োজিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা ও জনসচেতনতা শীর্ষক প্রচার, প্রেস ব্রিফিং ও সেমিনার শিরোনামে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী প্রধান অতিথি ছিলেন।
এ সময় প্রবাসীদের অবদানের কথা স্মরণ করে ইমরান আহমদ বলেন, ‘২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবাসী শ্রমিকরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১৬ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার। প্রবাসীরাই পদ্মা সেতু, বঙ্গবন্ধু ইকোনমিক জোন, পায়রা বন্দর, কর্ণফুলী টানেলের মতো বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে সরকারকে সাহস দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনসংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। জাতির পিতা যখন স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন তখন মানুষ ছিল সাড়ে সাত কোটি। এখন ষোলো কোটি। এই যে বিশাল জনগোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনসম্পদে পরিণত করতে হবে। তবেই জনসংখ্যা মানবসম্পদে পরিণত হবে।’
এ বছর ৫০ হাজার কর্মী বিদেশে পাঠানোর টার্গেট নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার প্রবাসী শ্রমিকদের উপযুক্ত ও দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য দেশের প্রতিটি উপজেলায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেছে। ৬৪ জেলায় ৭০টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। ৪০টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলমান আছে। আরও ৬০টির নির্মাণ প্রকল্পের ডিপিপি প্রস্তুত হচ্ছে। এর মধ্যে ৪০টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে হাউজ কিপিং কোর্সে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।’
অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর বলেন, ‘কোনও দেশে শ্রমিক পাঠানোর আগে সে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খতিয়ে দেখতে হবে। যারা টেকনিক্যাল টিচিং সেন্টারে (টিটিসি) প্রশিক্ষণ দেন, তারা সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন কিনা তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। প্রশিক্ষকরা নিজে প্রশিক্ষিত কিনা তাও দেখার বিষয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘অদক্ষতার জন্য বাংলাদেশের শ্রমিকরা বিদেশে উপযুক্ত মজুরি পান না। তাই যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কারিগরি জ্ঞান অর্জন করতে হবে। তখন বিদেশে উপযুক্ত মজুরি পাওয়া যাবে।’
বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন– বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আহম্মদ মনীরুছ সালেহীন, যুগ্মসচিব মোজাফফর আহমদ, সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার আমেনা বেগম, জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন প্রমুখ।








