অনুমতি ছাড়াই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
০৯ মার্চ ২০২০, ১৯:০০আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২০, ২০:৫৮

কেটে ফেলা গাছ কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে নতুন ভবন নির্মাণের কথা বলে অনুমতি ছাড়াই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের বেশ কিছু গাছ কেটে এবং পুরনো ভবন ভেঙে ইট ভাগবাটোয়ারা করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগ উঠেছে উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের শরিয়ত উল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা জানান, এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেও কোনও প্রতিকার মেলেনি।

এ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভুরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফিরুজুল ইসলাম এবং শিক্ষা কর্মকর্তা জ্যোতির্ময় বর্মণ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মাণে সরকারি টেন্ডার হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের যোগসাজশে পুরনো ভবন ভেঙে ফেলা হয়। এছাড়া কাঁঠাল, মেহগনিসহ প্রায় ১০-১২টি গাছ কেটে ফেলা হয়। ওষুধ কোম্পানির একটি প্যাডের পৃষ্ঠায় সই এবং সিল দিয়ে একটি মৃত গাছসহ কয়েকটি গাছ কাটার অনুমতি দেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জালাল মণ্ডল। এই অনুমতির বলে বিদ্যালয়ের পুরনো গাছ কেটে বিক্রি করে ভাগবাটোয়ারা করে নেন প্রধান শিক্ষকসহ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা।

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জালাল মন্ডলের সই করা গাছ কাটার অনুমতিপত্র এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুরনো ভবনের ইট, টিন, রড এবং গাছ বিক্রি করে ভাগবাটোয়ারা করে নেন প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও সাবেক সভাপতি উমর আলী, নৈশপ্রহরী কুতুব উদ্দিন ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জালাল মণ্ডল। গত ৫ মার্চ এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, শিক্ষা কর্মকর্তাসহ উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন মণ্ডল পুরনো ভবনের কিছু ইট নিয়ে যান। বাকি ইট বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক ও সাবেক সভাপতিসহ নৈশপ্রহরী ভাগবাটোয়ারা করে নেন।

এ বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন মণ্ডল বলেন, ‘নতুন ভবন নির্মাণের জন্য গাছ কাটা ও পুরনো ভবন ভাঙা হয়েছে। তবে এতে আমার সংশ্লিষ্টতা নেই।’ গাছ কাটার লিখিত অনুমতি আপনি দিতে পারেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি কোনও অনুমতিপত্র দিয়েছি কিনা তা স্মরণ করতে পারছি না।’

জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জ্যোতির্ময় বর্মণ বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে গাছ কাটার লিখিত কিংবা মৌখিক অনুমতি কেউ নেননি বা দেওয়া হয়নি। বিষয়টি আমরা জেনেছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইউএনও ফিরুজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা একটা অভিযোগ পেয়েছি। গাছ কাটা কিংবা ভবন ভেঙে ইট বিক্রি সংক্রান্ত কোনও অনুমতি স্কুল কর্তপক্ষকে দেওয়া হয়নি।’

শিগগিরই এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানান ইউএনও।

/এমএএ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বজ্রনিনাদে ভারতে বর্ষার প্রবেশ, কেরালাজুড়ে হচ্ছে ভারি বৃষ্টি
বজ্রনিনাদে ভারতে বর্ষার প্রবেশ, কেরালাজুড়ে হচ্ছে ভারি বৃষ্টি
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
বিএসইসির চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ ও ৪ কমিশনারের পদত্যাগ
বিএসইসির চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ ও ৪ কমিশনারের পদত্যাগ
দাম বৃদ্ধির একদিন পরই লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য রিভিউ আবেদন
দাম বৃদ্ধির একদিন পরই লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য রিভিউ আবেদন
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান