বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগানকে মধ্যরাতে বাসা থেকে তুলে নিয়ে মারধরসহ অমানুষিক নির্যাতনের পর ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে দেশের সাংবাদিক সংগঠন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। গণমাধ্যমে এ ঘটনা জানার পর থেকে শনিবার (১৪ মার্চ) দিনভর দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এবং আরিফের মুক্তিসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করে মানববন্ধন ও সমাবেশ অব্যাহত রয়েছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য:
বগুড়া প্রতিনিধি জানিয়েছেন, কুড়িগ্রামে মধ্যরাতে বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগানকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে মারধরের পর কারাদণ্ডাদেশ দেওয়ার নিন্দা জানিয়েছে বগুড়া টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটি (বিটিআরইউ)। শনিবার বিটিআরইউ সভাপতি জিএম সজল ও সাধারণ সম্পাদক মেহেরুল সুজন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, জেলা প্রশাসনের দুর্নীতি-অনিয়মের একাধিক সংবাদ প্রকাশ করার জেরে শুক্রবার গভীর রাতে কুড়িগ্রামের গণমাধ্যমকর্মী আরিফুল ইসলামের বাড়ির দরজা ভেঙে ডিসি অফিসের কয়েকজন ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৫-১৬ জন আনসার সদস্য প্রবেশ করেন। বাড়িতে ঢুকেই তারা আরিফুলকে মারধর করার পর তাকে আটক করে নিয়ে যায়। তাকে একটা শার্ট পরারও সময় দেওয়া হয়নি। এসময় বাসায় কোনো তল্লাশি অভিযান না চালালেও ডিসি অফিসে আরিফুলকে নেওয়ার পর দাবি করা হয়, তারা বাড়ি থেকে মদ ও গাঁজা পাওয়া গেছে। এরপর রাতেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এক বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয় এই গণমাধ্যমকর্মীকে।
বিবৃতিতে বিটিআরইউ নেতারা আরও বলেন, একজন গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এমন আচরণ নজিরবিহীন। জেলা প্রশাসনের অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় এমন নিপীড়ন চালানো হয়েছে একজন সাংবাদিকের ওপর। নেতারা অবিলম্বে এই জঘন্য নিপীড়নের সঙ্গে যুক্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার এবং সাজানো অভিযোগে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত
বিবৃতিতে গণমাধ্যমকর্মী আরিফুল ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করা হয়।
বরিশাল প্রতিনিধি জানান, দেশব্যাপী সাংবাদিক সমাজের ওপর অব্যাহত হামলা-মামলা ও হয়রানি-নির্যাতনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ‘নিউজ এডিটরস্ কাউন্সিল, বরিশাল। সংগঠনটি বলেছে, কুড়িগ্রামের সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে মধ্যরাতে বাসভবন থেকে একটি মহল তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা সাংবাদিকদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। শনিবার বিকেলে ‘নিউজ এডিটরস্ কাউন্সিল, বরিশাল সভাপতি হাসিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার রাকিব এক বিজ্ঞপ্তিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী ও রিপোর্টার আল-আমিনের বিরুদ্ধে মামলা সাংবাদিক সমাজের কাছে কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রকাশিত রিপোর্টে কারও নাম না থাকলেও মানবজমিন সম্পাদক ও রিপোর্টারের বিরুদ্ধে মামলা বাক-স্বাধীনতা তথা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের সামিল। এছাড়া বেশ কয়েকদিন যাবৎ সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল নিখোঁজ থাকলেও তার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনও বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সাংবাদিক সমাজ।’
সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদে ‘নিউজ এডিটরস্ কাউন্সিল, বরিশালের নেতৃবৃন্দ আরও বলেন- ‘এসব ঘটনার মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সরকারের সঙ্গে সাংবাদিক সমাজের বিরোধ তৈরি করার অপচেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট মহলগুলো। এসব ঘটনার মাধ্যমে বাক-স্বাধীনতার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি বারবার ব্যাহত করার চক্রান্তে ব্যস্ত নানা চিহ্নিত মহল।’
নেতারা এ ধরনের অপচেষ্টাকারীদের সতর্ক করে দিয়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দাবি করেন। তা না হলে চিহ্নিত এ মহলের মুখোশ উন্মোচনে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে নির্যাতনের ঘটনায় সারাদেশের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা বলছেন, সরকারি পদস্থ আমলারা নিজেদের অপকর্ম ধামাচাপা দিতেই স্বাধীন গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করেছেন। এতে মাঠ পর্যায়ে জন প্রশাসনের ভাবমূর্তি অনেকাংশেই ক্ষুণ্ন হবে। প্রশানের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমবে। তারা দ্রুত ঘটনাটির তদন্ত করে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসককে অপসারণসহ যারা এ ঘটনায় জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক ও জেলা সচেতন নাগরিক কমিটি(সনাক) এর সহ-সভাপতি আব্দুন নূর এ ঘটনাকে স্বাধীন ও সৎ সাংবাদিকতার ওপর হুমকি বলে মন্তব্য করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। পাশাপাশি ঘটনা তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে জনপ্রশাসনমন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়েছেন ও সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।
ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জেলা খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক নিহার রঞ্জন সরকার বলেন, এ ঘটনায় মাঠ পর্যায়ে ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি এ ঘটনার পর নারী ক্ষমতায়ন নিয়েও মাঠ পর্যায়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটাই অনুরোধ করবো এসব আমলাদের মুজিববর্ষের আগেই জনপ্রশাসন থেকে অপসারণ করুন। অন্যথায় আপনার সব অর্জন এদের কারণে বিসর্জন হয়ে যাবে।
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া তিতাস সাহিত্য সাংস্কৃতি পরিষদের পরিচালক কবি ও সাংবাদিক মনির হোসেন বলেন, যেভাবে একজনের বাড়িতে ঢুকে তাকে আটক করে মধ্যরাতে আদালত বসিয়ে সাজা দেওয়া হয়েছে তাতে পুরো ঘটনাকে সাজানো বলে সাধারণ মানুষ সন্দেহ পোষণ করছে। তিনি বলেন, ডিসিসহ এমন ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদেরকে কঠোর জবাদদিহিতা ও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। তিনি সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দীপক চৌধুরী বাপ্পী এ ঘটনাকে নজিরবিহীন দাবি করে বলেন, এঘটনায় মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা কমে আসবে। তিনি ঘটনা তদন্ত করে কুড়িগ্রামের ডিসিসহ জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
চট্টগ্রাম থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, কুড়িগ্রামে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে মাঝ রাতে নিজের বাসার দরজা ভেঙে তুলে এনে অমানুষিক নির্যাতন ও মাঝরাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে কারাদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমের সুস্থ শক্তির ওপর চরম বেআইনি হস্তক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের সাংবাদিক নেতারা।
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল২৪ এর রিজিওনাল এডিটর (চট্টগ্রাম) কামাল পারভেজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ জঘন্য কাজ সারাদেশের সাংবাদিকদের চরমভাবে শঙ্কিত করে তুলেছে। কারণ, এ ঘটনা এটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে প্রশাসনের কারও নিউজ পছন্দ না হলে এভাবে সাজা দিয়ে সাংবাদিকদের শায়েস্তা করা সম্ভব। এটা ভয়ঙ্কর মানসিকতা। এটি রাষ্ট্রের চিরন্তন ক্ষমতাকেও চ্যালেঞ্জ করার মতো।’
চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে এবং এ ধরনের ঘটনা অনেক সময় সাংবাদিকদেরকে সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। এটি কোনোভাবে কাম্য নয়। সরকারের যেসব কর্মকর্তার ইন্ধনে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে আমরা আশাকরি সরকার অবশ্যই তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব’র সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটি খুবই উদ্বেগের বিষয়। রাতে আঁধারে এভাবে কাউকে তুলে নিয়ে শাস্তি দেওয়ার নজির এর আগে আমরা কখনও দেখিনি। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উম্মোচন করে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
নাটোর প্রতিনিধি জানান, এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন, নাটোর প্রেসক্লাবের সভাপতি জালাল উদ্দিন,সিনিয়র সহ সভাপতি এবিএম মোস্তফা খোকন ও সাধারণ সম্পাদক বাপ্পী লাহিড়ী।
নাটোর প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্য,বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি নাটোর জেলা শাখার সভাপতি এস এম মনজুর-উল-হাসান জানান, এ ধরনের ঘটনা কোনোমেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এঘটনায় সাংবাদিকদের যেমন অপমান ও অপদস্ত করা হয়েছে তেমনিভাবে সরকারের ভাবমূর্তিও নষ্ট করেছেন ওই জেলা প্রশাসক। তিনি অনতিবিলম্বে ওই জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহার ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
এছাড়াও প্রতিবাদ জানান, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা,নাটোর জেলা কমিটির সভাপতি আব্দুল মজিদ, বড়াইগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি ওহিদুল হক, নলডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য রানা আহমেদ, নাটোর ইউনাইটের প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য রেজাউল করিম রেজা ও নিউএজ প্রতিনিধি আশরাফুল আলম।
গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন গাজীপুর জেলার সাংবাদিক নেতারা। গাজীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও ইত্তেফাকের গাজীপুর প্রতিনিধি মজিবুর রহমান বলেন, প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের হাতে সাংবাদিকদেরকে এরকম নির্যাতন ও সাজা গণতান্ত্রিক দেশে কাম্য নয়।
গাজীপুর প্রেসক্লাব ও গাজীপুর প্রিন্ট মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক দৈনিক যুগান্তরের গাজীপুর প্রতিনিধি একেএম শামসুল হক রিপন শাহ বলেন, সাংবাদিককে রাতের আঁধারে এভাবে ধরে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনা খুবই ন্যক্কারজনক ও স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের জন্য বাধা।
এছাড়াও এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন গাজীপুর প্রিন্ট মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও কালের কণ্ঠের গাজীপুরের নিজস্ব প্রতিবেদক শরীফ আহমেদ শামীম, শ্রীপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও শ্রীপুর উপজেলা সাংবাদিক সমিতির উপদেষ্টা বাংলাদেশ প্রতিদিনের শ্রীপুর প্রতিনিধি মাহবুবুর রহমান আকন্দ, অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগো নিউজের শ্রীপুর প্রতিনিধি শিহাব খান, শ্রীপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ভোরের কাগজের শ্রীপুর প্রতিনিধি নাসির উদ্দিন জর্জ প্রমুখ।
রংপুর প্রতিনিধি জানান, বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামকে মধ্যরাতে কথিত অভিযানের নামে বাড়ি থেকে মেরে টেনে হেঁচড়ে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে একবছরের সাজা দেওয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মামলা প্রত্যাহার এবং তার নিঃর্শত মুক্তির দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন। শনিবার এক বিবৃতিতে ইউনিয়নের সকল সদস্যের পক্ষে সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেক ও সাধারণ সম্পাদক সরকার মাজহারুল মান্নান বলেন, সাংবাদিক আরিফুলের বাসায় যেভাবে মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে তাকে মারধর করে টেনে হিঁচড়ে ডিসি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তা সংবিধানবিরোধী ও সভ্যতা ভব্যতা বিরোধী। তার কাছে মাদক পাওয়ার যে কথা বলা হচ্ছে তারও কোনও ভিত্তি নেই। কেবলমাত্র সংবাদ প্রকাশের জেরে আক্রোশ থেকেই তাকে গ্রেফতার করে কথিত মাদক উদ্ধার দেখানো হয়েছে বলে আমরা মনে করি। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে যত দ্রুত সম্ভব রিগ্যানকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনগত এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। এই দাবি মানা না হলে সারা বাংলাদেশের সাংবাদিকরা এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।
পাবনা প্রতিনিধি জানান, আরিফুল ইসলামের ঘটনায় পাবনা প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন।
পাবনা প্রেসক্লাব সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান ও সম্পাদক সৈকত আফরোজ আসাদ জানান, এ ধরনের ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্তরায়। এতে আমরা পাবনা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। এই ঘটনা সঠিকভাবে তদন্ত করে দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি করছি।
পাবনা জেলা টেলিভিশন সাংবাদিক সমিতির আহ্বায়ক রাজিউর রহমান রুমী বলেন, অন্যায়ভাবে তাকে এভাবে নিপীড়ন করা স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্তরায়। এতে সাংবাদিক পেশা হুমকি মুখে পড়বে। এই ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি ও দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি করছি।
পাবনা জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহবুব মোর্শেদ বাবলা বলেন, মাঝ রাতে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে অন্যায়ভাবে সাজা দেওয়া আইন পরিপন্থী। আমরা কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সহ দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি করছি।
পাবনা জেলা সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি আব্দুল মতীন খান ও সম্পাদক শহীদুর রহমান শহীদ বলেন, আমরা এই ধরনের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। সুষ্ঠু তদন্ত করে কঠোর শাস্তি দাবি করছি।
পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সম্পাদক ও মাছরাঙা টেলিভিশনের উত্তরাঞ্চলের ব্যুরো চিফ উৎপল মির্জা বলেন, গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী। ক্ষমতার অপব্যবহার করে যে দৃষ্টান্ত তৈরি করা হয়েছে এটা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবের সভাপতি জীতেন বড়ুয়া, সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নুরুল আজম, জেলা টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিশেনের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম প্রফুল্ল, খাগড়াছড়ি ক্রাইম রিপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তরুন কুমার ভট্টাচার্য্য, মাসিক পাহাড়ের আলো পত্রিকার সম্পাদক মো. মোবারক হোসেন, খাগড়াছড়ি প্রতিদিন ডট কম’র সম্পাদক জসিম উদ্দিন মজুমদার, সাপ্তাহিক আলোকিত পাহাড় পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ সাজু, দৈনিক সবুজ পাতার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মো. জুলহাস উদ্দিন, খাগড়াছড়ি রিপোটার্স ইউনিটির সম্পাদক চাইথোয়াই মারমা অবিলম্বে সাংবাদিক আরিফের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
পিরোজপুর প্রতিনিধি জানান, এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন পিরোজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাকের স্টাফ রিপোর্টার মুনিরুজ্জামান নাসিম আলী, সাধারণ সম্পাদক চ্যানেল আই ও সমকাল প্রতিনিধি ফসিউল ইসলাম বাচ্চু, সাবেক সভাপতি ও জনকণ্ঠ প্রতিনিধি শফিউল হক মিঠু, সাবেক সভাপতি ও যায় যায় দিন এর স্টাফ রিপোর্টার জহিরুল হক টিটু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডেইলি ইনডিপেনডেন্ট প্রতিনিধি রেজাউল ইসলাম শামীম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কালের কণ্ঠ ও একুশে টিভির প্রতিনিধি শিরিনা আফরোজ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিউজ২৪ ও বাংলাদেশ প্রতিদিন প্রতিনিধি এস এম তানভীর আহমেদ। বিবৃতিদাতারা আরিফকে আটক ও সাজা দেওয়ার বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করা হয়েছে। বিএমএসএফ কেন্দ্রীয় সভাপতি শহীদুল ইসলাম পাইলট ও সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আবু জাফর দেশের গণমাধ্যমের অস্থিশীলতা নিরসনে অবিলম্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সভা অনু্ষ্ঠিত হবে। অপরদিকে, সোমবার (১৬ মার্চ) ঝালকাঠিতে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) এর উদ্যোগে সকাল ১০ টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন পালিত হবে। এতে সংশ্লিষ্ট সকলকে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ঝালকাঠি জেলা শাখা। সাংবাদিকদের সুরক্ষার দাবিতে সকল সাংবাদিক ও সুহৃদকে মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।








